দেশের ঐতিহ্যবাহী ও ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে আলোচিত টুর্নামেন্ট ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। ১২টি ক্লাবকে নিয়ে ৫০ ওভারের এই প্রতিযোগিতা বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, উত্তেজনাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর হয়ে থাকে। জাতীয় দলের তারকারা অংশ নেওয়ায় লিগ জমে ওঠে আরও বেশি। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর শক্তির লড়াই, পয়েন্ট টেবিলের হিসাব-নিকাশ আর আর্থিক প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগ আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
তবে এবার সেই আয়োজন নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের অধীনে লিগ খেলতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে মার্চ-এপ্রিল ঘিরে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত লিগ শুরুর স্পষ্ট কোনো আলোচনা নেই। শুধু পুরুষদের নয়, নারীদের লিগও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
এমন সময়ে লিগ আয়োজন আরও বেশি প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়। র্যাংকিংয়ের সেরা দশে থাকতে পারলেই মিলবে সরাসরি সুযোগ। তাই ৫০ ওভারের প্রতিটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ ছুটছে ব্যাকগিয়ারে। যে ওয়ানডে ছিল একসময় দলের গর্ব, যেখানে বড় দলগুলোকেও চাপে ফেলত দল—সেখানেই এখন আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি স্পষ্ট। ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সে প্রশ্ন উঠছে দলীয় মনোবল নিয়েও।
এই পরিস্থিতিতে প্রিমিয়ার লিগ হতে পারত ক্রিকেটারদের বড় জ্বালানি। নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা, পুরোনোদের আত্মবিশ্বাস ফেরানো, হারানো ফর্ম ফিরে পাওয়া এবং সঠিক কম্বিনেশন গড়ে তোলার আদর্শ মঞ্চ হতে পারত এই লিগ। অথচ দেশের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ৫০ ওভারের আসর আদৌ মাঠে গড়াবে কি না, তা নিয়েই সংশয় কাটছে না।
জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে যেকোনো মূল্যে প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেছেন তিনি।
জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছেন, “আমরা খেলতে চাই। আমাদের কথা শুনবে কিনা জানি না। খুব গুরুত্বপূর্ণ যে এই ওয়ানডে প্রতিযোগিতাটা হওয়া। বিশেষ করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। সামনে আমাদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ আছে। এখন আমরা ওয়ানডে ম্যাচ খুব কম খেলি। প্রিমিয়ার লিগের সময়ই কিন্তু ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়। তাই এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিযোগিতা।‘’
‘‘আমি চাইবো লিগটা যেন খুব ভালোভাবে আয়োজন করা হয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট যেন দেখা যায় এবং ভালো স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হয়। লিগ হওয়া অবশ্যই উচিত। বাকিটা উপর আল্লাহ জানেন।” – যোগ করেন তিনি।
সামনেই আসছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে দুই দল। পাকিস্তান সিরিজের আগে বিসিবি আয়োজন করেছিল বিসিএল ওয়ানডে প্রতিযোগিতা। চারটি দল নিয়ে সেরা ৬০ ক্রিকেটারের অংশগ্রহণের এই প্রতিযোগিতার পর্দা গতকাল নেমেছে। নাজমুলদের বিসিবি নর্থ জোন হয়েছে রানার্সআপ।
প্রস্তুতির দিক থেকে বিসিএলকেও মূল্যায়ন করেছেন নাজমুল, ‘‘প্রস্তুতির দিক থেকে, আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলার আগে এটা ভালো টুর্নামেন্ট হয়েছে। ব্যাটসম্যান ও বোলাররা ভালো মতো প্রস্তুতি নিতে পেরেছে। যেই কন্ডিশনে আমরা খেলেছি রাজশাহী ও বগুড়াতে, এই কন্ডিশনে খুব ভালো ক্রিকেট হয়েছে। স্পোর্টিং উইকেট ছিল। যেটা ওয়ানডে ক্রিকেটে সব জায়গায় থাকে। এটা ইতিবাচক দিক ছিল। ওভারঅল টুর্নামেন্ট দারুণ ছিল।’’
এবারের লিগ হয়েছে রাজশাহী ও বগুড়াতে। যেখানে স্পোর্টিং উইকেটে খেলেছে দলগুলো। ফাইনাল হয়েছে মিরপুরে। যেখানে ম্যাচ হয়েছে একপেশে। ওয়ানডেতে ভালো করতে হলে রাজশাহী ও বগুড়াতে বেশি খেলার আয়োজনের কথা বললেন নাজমুল,
‘‘রাজশাহী ও বগুড়াতে আরও বেশি বেশি খেলা হওয়া উচিত। বিশেষ করে সাদা বলে। যদি বিপিএল হয় খুবই ভালো। বিসিএলে দেখেছেন বোলিং ও ব্যাটিংয়ে কতটা প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ হয়েছে। যদি সাদা বলে উন্নতি করতে চান আমার মনে হয়, এই দুইটা ভেনু্যতে আমাদের ফোকাস দেওয়া উচিত। বেশি বেশি ম্যাচ ওখানে খেলতে পারলে দলের বেনিফিট হবে।’’