ইফতারে অনেকেই চিনির পরিবর্তে আখের গুড়ের শরবত পান করেন। আখের রস থেকে প্রস্তুত আখের গুড় পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি প্রাকৃতিক মিষ্টি উপাদান। সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করলে এটি শরীরের পাশাপাশি পাকস্থলীর জন্যও উপকার বয়ে আনতে পারে।
পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা আয়রন সমৃদ্ধ: আখের গুড়ে পর্যাপ্ত আয়রন থাকে, যা শরীরে রক্ত উৎপাদনে সহায়তা করে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে।
পাকস্থলীর কার্যকারিতা উন্নত করে: হালকা গরম পানিতে আখের গুড় মিশিয়ে শরবত বানিয়ে খেলে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক হতে পারে।
শ্বাসযন্ত্রের উপকারে: এটি শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
এলার্জি ও মাইগ্রেন উপশমে সহায়ক: অনেকের মতে, নিয়মিত অল্প পরিমাণে গুড় খেলে এলার্জি ও মাইগ্রেনের উপসর্গ কিছুটা কমতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: আখের গুড়ে থাকা জিংক ও সেলেনিয়াম দেহের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
দুর্বলতা কাটাতে সহায়ক: জন্ডিস বা ডায়রিয়ার পর শরীর দুর্বল হয়ে পড়লে আখের গুড় মিশ্রিত স্যালাইন দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে এবং প্রয়োজনীয় খনিজ ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে।
খাঁটি গুড় ও ভেজাল গুড় চেনার উপায় খাঁটি গুড় যেমন উপকারী, তেমনি ভেজাল গুড় স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই কেনার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। দুই আঙুলে সামান্য ভেঙে চেখে দেখুন। যদি স্বাদে নোনতা ভাব থাকে, তাহলে বুঝতে হবে এতে ভেজাল মেশানো হয়েছে।
আখের গুড়ের শরবত পরিমিত পরিমাণে পান করলে এটি হজমে সহায়তা করে, শক্তি জোগায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। প্রতি ১০০ গ্রাম গুড়ে প্রায় ৩৮৫ ক্যালরি থাকে। এছাড়া এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও বেশি। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে আছেন, তাদের জন্য বেশি পরিমাণে গুড় খাওয়া ঠিক নয়। তবে অল্প পরিমাণে খেলে সাধারণত সমস্যা হয় না। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে ওজন বৃদ্ধি হতে পারে।