সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেতে তৎপরতা শুরু করেছেন নাটোরের পাঁচজন নেত্রী। ইতোমধ্যে তারা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। মনোনয়ন পেতে তারা দলে নিজেদের অবদান ও ত্যাগের কথা তুলে ধরছেন।
বিএনপি নেতারা জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারণ করবেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন- সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, সাবেক সংসদ সদস্য সুফিয়া হক, অ্যাডভোকেট আইনুন নাহার, মহুয়া নূর কচি ও সানজিদা ইয়াসমিন তুলি।
সাবিনা ইয়াসমিন ছবি জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান কমিটির সদস্য। তিনি নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সহধর্মিণী। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী ছিলেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সক্রিয়তার কারণে সাবিনা ইয়াসমিন ছবি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেলে নাটোর-নওগাঁ অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
জেলা মহিলা দলের সভাপতি সুফিয়া হকও মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ত এই নেত্রী আশা করছেন, তার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় দল এবার তাকে মূল্যায়ন করবে।
অ্যাডভোকেট আইনুন নাহার জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই নেত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। দল তাকে মূল্যায়ন করবে এমন প্রত্যাশা তার।
বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নূর বাবুর সহধর্মিণী মহুয়া নূর কচিও আলোচনায় রয়েছেন। ২০১০ সালে বিএনপির কর্মসূচি চলাকালে তার স্বামী নিহত হন। ঘটনার পর খালেদা জিয়া তাদের বাসায় গিয়ে সান্ত্বনা দেন। এরপর থেকে মহুয়া নূর কচি বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন।
এছাড়া, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) এলাকার মেয়ে ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানজিদা ইয়াসমিন তুলি তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাও রয়েছে তার জীবনে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করেন, তরুণ ও রাজপথ-সক্রিয় নেত্রী হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে দল আরো শক্তিশালী হবে।
নাটোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ বলেন, “সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। আমাদের জেলার কয়েকজন যোগ্য ও ত্যাগী নেত্রী আছেন। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষেই কাজ করব।”