আন্তর্জাতিক

ইরানের শহরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মুহুর্মুহু হামলা

ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। বুধবার (৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপি জানায়, ইরানজুড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কেন্দ্রীয় তেহরানের বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপ দেখানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতভর চালানো এই হামলায় তাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পশ্চিম তেহরান এবং এর পার্শ্ববর্তী শহর কারাজ লক্ষ্য করে তীব্র বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া পবিত্র শিয়া সেমিনারি শহর কোয়ম, বেহবাহান, কেরমানশাহ, খোররামাবাদ, শিরাজ ওতাবরিজেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই সংঘাতকে ‘রমজান যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

বুধবার ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতি জানায়, তাদের বাহিনী নতুন করে বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ও বাসিজের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েক ডজন কমান্ড সেন্টারে আঘাত হেনেছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক ও অন্যান্য সামরিক ব্যবস্থাসহ ইরানের স্থল বাহিনীর সাপ্লাই অ্যান্ড লজিস্টিক অধিদপ্তরেও হামলা চালানোর দাবি করেছে।

তবে হামরায় বেসামরিক নাগরিক নিহতদের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। গত শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলে হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি।  

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী ১৮১ জন শিশু রয়েছে। বেসামরিক আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪০২ জনে, যার মধ্যে ১০০ জন শিশু রয়েছে। 

গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। এসব হামলায় সামরিক ঘাঁটি, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকায় আঘাত হানা হয়েছে। 

ইরান এসব হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।