যেদিকে চোখ যায়, সেদিকে হলুদ আর হলুদ। সারি সারি গাছে ফুটে আছে সূর্যমুখী ফুল। এক সময় যা ছিল শুধু শৌখিন বাগান কিংবা বাড়ির আঙিনার শোভাবর্ধক ফুল, আজ তা নড়াইলের কৃষকদের কাছে অর্থকরী ফসল।
ভোজ্যতেলের উত্তরোত্তর মূল্যবৃদ্ধির এই সময়ে কম খরচে অধিক মুনাফার আশায় নড়াইল সদর উপজেলার কৃষকরা ঝুঁকছেন সূর্যমুখী চাষে। সরিষার চেয়ে দ্বিগুণ লাভের সম্ভাবনা আর প্রকৃতির অপরূপ ছোঁয়ায় নড়াইলের কৃষি অর্থনীতিতে সূচিত হয়েছে নতুন দিগন্ত।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নড়াইল সদর উপজেলায় সূর্যমুখী চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটছে। গত বছর যেখানে সূর্যমুখী আবাদ ছিল মাত্র ৫৫ হেক্টর, সেখানে চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ হেক্টর জমি। মাটি ও আবহাওয়ায় অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনার রয়েছে এমনটি মনে করছেন চাষিরা।
বুধবার (৪মার্চ) সকালে সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের চাঁচড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সূর্যমুখীর বাগানে উড়ছে মৌমাছি আর নানা রকম পাখি। মৌমাছিরা সূর্যমুখী ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত। এমন মুগ্ধতা ছড়ানো দৃশ্য দেখে কৃষকের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক।
চাঁচড়া গ্রামের সূর্যমুখী চাষি আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি গত বছর সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হয়েছেন। এ কারণে চলতি মৌসুমে বাণিজ্যিকভাবে তিন একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করছেন। এবার আরো বেশি লাভবান হবেন বলে প্রত্যাশা তার।
কৃষক ফরিদ ভূইয়া বলেন, “ধান বা পাটে অনেক পানি আর সার লাগে। খরচ মেটাতে হিমশিম খাই। সূর্যমুখীতে পানি কম লাগে, পোকাও কম ধরে। গত বছর আমি অল্প জমিতে চাষ করে ভালো ফদাম পেয়েছিলাম। এ কারণে এবার দুই একর জমিতে চাষ করেছি। এটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। সঠিক সময়ে বীজ রোপণ ও সামান্য পরিচর্যা করলেই ফলন ভালো হয়।”
নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, “বারি সূর্যমুখী-৩ এবং হাইসান-৩৬ এই জাতের সূর্যমুখী বেশি চাষ হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি। সূর্যমুখী চাষে যেমন উৎপাদন খরচ কম, তেমনি এর তেলের পুষ্টিগুণ সাধারণ তেলের চেয়ে অনেক বেশি। হৃদরোগীদের জন্য এই তেল অত্যন্ত উপকারী। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া থাকলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”