সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীকে হত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট আট দফা দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ব্লাস্টের লিগ্যাল স্পেশালিস্ট অ্যাডভোকেট আয়েশা আক্তার বলেন, “দেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সম্প্রতি নরসিংদীর মাধবদী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, পাবনার ঈশ্বরদী ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তার প্রমাণ।” এসব ঘটনায় দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে জোটের পক্ষ থেকে দাবি জানান তিনি।
এসময় তিনি ধর্ষণ আইন সংস্কার চেয়ে আট দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো— ১. সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা। ২. ভুক্তভোগী, তাদের পরিবার ও সাক্ষীদের সুরক্ষা এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। ৩. ধর্ষণসহ যৌন সহিংসতার ঘটনায় সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। ৪. মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধর্ষণ বিষয়ক আইন সংস্কার করা এবং ধর্ষণের সংজ্ঞা বিস্তৃত করা। ৫. প্রতিবন্ধী ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা। ৬. ধর্ষণ মামলায় ভুক্তভোগীর চরিত্রগত সাক্ষ্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা। ৭. স্বাস্থ্যসেবা, বিচার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা। ৮. প্রয়োজনীয় সংশোধনী যুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ দ্রুত আইনে রূপান্তর করা।
সংবাদ সম্মেলনে জোটের প্রতিনিধিরা জানান, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বাংলাদেশ সংবিধানের সমতা, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। একইসঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডেরও লঙ্ঘন।
জোটের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে দৃঢ় ভূমিকা রাখবে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
সংবাদ সম্মেলনে নারীপক্ষ, ব্রাক ও মহিলা পরিষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।