আন্তর্জাতিক

ইরানের যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলায় ৮০ নাবিক নিহত: শ্রীলঙ্কা

ভারত মহাসাগরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ ডুবে যাওয়ার ফলে অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫) মার্চ শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকে টর্পেডো ছোড়ার পর জাহাজটি ডুবে যায়। খবর সিএনএনের। 

শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনী জানিয়েছে, জাহাজটি থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, বুধবার (৪ মার্চ) জাহাজটি থেকে যখন প্রথম বিপদসংকেত পাওয়া যায়, তখন জাহাজটিতে ১৮০ জন আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার জানান, একটি মার্কিন সাবমেরিন আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি ইরানি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে।

হেগসেথ শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনীর উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, তার দেওয়া হামলার বর্ণনা এবং বর্তমানে চলমান উদ্ধার অভিযানের স্থান একই বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

বুধবার ইরানে হামলার পাঁচ দিনের মাথায় হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট জানান, ইরানে চারটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্র্রাম্প। তার মধ্যে একটি হলো, তেহরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করা। 

এর আগে গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর কমান্ডর ব্র্যাড কুপার ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে এ পর্যন্ত ১৭টি ইরানি জাহাজ ধ্বংসের দাবি করেছিলেন। 

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার চার দিনের মাথায় মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার এমন দাবি করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্স-পোস্ট করা ভিডিও বার্তায় কুপার বলেন, “আমরা ইরানের নৌবাহিনীকেও ডুবিয়ে দিচ্ছি- পুরো নৌবাহিনীকে। এ পর্যন্ত আমরা ১৭টি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করেছি, যার মধ্যে ইরানের সবচেয়ে সচল সাবমেরিনটিও রয়েছে, যার এক পাশে এখন বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে।”

তিনি বলেন, “কয়েক দশক ধরে ইরানি শাসনব্যবস্থা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে আসছে। আজ আরব উপসাগর, হরমুজ প্রণালী বা ওমান উপসাগরে ইরানের একটি জাহাজও সচল নেই। এবং আমরা থামব না।”