আন্তর্জাতিক

কাতারে ৪ যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

কাতারে ৪ যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য কাতারে ব্রিটেনের স্কোয়াড্রনে যোগদানের জন্য আরো চারটি টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে। বৃহস্পতিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্টারমার জানিয়েছেন, ড্রোন-বিরোধী ক্ষমতা সম্পন্ন ওয়াইল্ডক্যাট হেলিকপ্টার আগামীকাল সাইপ্রাসে পৌঁছাবে এবং এইচএমএস ড্রাগন ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, যুক্তরাজ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনার জন্য’ ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা এই অঞ্চলে ব্রিটিশ জনগণ এবং আমাদের মিত্রদের উপর এই ঢাল বজায় রাখব।”

যুদ্ধ শুরুর হওয়ার আগেই ব্রিটেন মধ্যপ্রাচ্যে তার সামরিক সম্পদ বৃদ্ধি করেছিল উল্লেখ করে স্টারমার বলেন, “ব্রিটিশ জনগণকে রক্ষা করা আমার অগ্রাধিকার, যে কারণে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার অনেক আগে আমাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য” এই অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সম্পদ বৃদ্ধি করা শুরু হয়েছিল।

জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিজুড়ে সাইপ্রাস এবং কাতারে প্রতিরক্ষা সম্পদ স্থানান্তর করছিল ব্রিটেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান, বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত রাডার সিস্টেম। যুক্তরাজ্য যাতে যেকোনো সংঘাতের আগে ‘উচ্চতর প্রস্তুতির অবস্থায়’ থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য এগুলো মোতায়েন করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।  

সাইপ্রাসে অ্যান্টি-ড্রোন হেলিকপ্টার পাচ্ছে যুক্তরাজ্য

সাইপ্রাসে ড্রোন প্রতিরোধে সক্ষম সশস্ত্র অ্যান্টি-ড্রোন সামরিক হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য।

আলজাজিরা লিখেছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি সংযুক্ত ওয়াইল্ডক্যাট হেলিকপ্টার শুক্রবার সাইপ্রাসে পৌঁছাবে।

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বর্তমানে দ্বীপটিতে অবস্থান করছেন এবং সেখানে সামরিক কার্যক্রম সমন্বয় ও সেনা সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।

এছাড়া ব্রিটেন পূর্ব ভূমধ্যসাগর এলাকায় তাদের যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ড্রাগন মোতায়েন করছে।

কুর্দিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে ইরান

ইরানি বাহিনী তাদের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে প্রতিবেশী ইরাকে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার আল-জাজিরা অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, তারা ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর’ পোস্টগুলোতে আক্রমণ করেছে। এই গোষ্ঠীগুলো পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছিল। ইরানি হামলায় তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ইরানি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানি বাহিনী ‘ইসরায়েলি-আমেরিকান’ ইরানি ভূমিতে আক্রমণের পরিকল্পনা ব্যর্থ করতে ‘সম্ভ্রান্ত কুর্দিদের’ সাথে সহযোগিতা করছে।

প্রসঙ্গত, বুধবার সিএনএন জানিয়েছি, ইরানের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করতে কুর্দিদের অস্ত্র দেওয়ার কথা ভাবছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও ইরাকের কুর্দি নেতাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন।

ইরানের আন্তর্জাতিক ‌‘আজাদি স্টেডিয়াম’ ধ্বংস ইরানের রাজধানী তেহরানের বিখ্যাত ফুটবল স্টেডিয়াম আজাদি স্টেডিয়াম সাম্প্রতিক হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি জানিয়েছে, হামলার পর স্টেডিয়ামটির বড় অংশ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের গ্যালারি ও অন্যান্য অংশে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে এবং সেখান থেকে ঘন ধোঁয়া উঠছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের আজাদি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা প্রায় ১২ হাজার আসনের একটি ইনডোর স্টেডিয়াম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ধ্বংস হয়েছে।

এই ক্রীড়া কমপ্লেক্সটি বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য পরিচিত।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ১,২৩০

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৩‍০ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২৩‍০ জনে পৌঁছেছে এবং আরো অনেক মানুষ আহত হয়েছেন।

এর আগে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৯২৬ জনেরও বেশি ছিল এবং ৬ হাজারের বেশি মানুষ আহতের তথ্য ছিল।

এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরো তীব্র হয়ে উঠেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ধ্বংস ও হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

বেসামরিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সচেতনভাবেই এমন জায়গায় হামলা চালাচ্ছে, যেখানে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হবে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “আমাদের জনগণকে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে, কারণ হামলাকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকা এবং এমন সব স্থানে আঘাত করছে, যেখানে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ও প্রাণহানি ঘটানো সম্ভব।”