সারা বাংলা

আ.লীগ কার্যালয়ে দুপুরে ঝোলানো হলো ‘পাবলিক টয়লেট’, সন্ধ্যায় নেই

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়কে ‘পাবলিক টয়লেট’ ঘোষণা করে ব্যানার ঝুলিয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। সমালোচনার মুখে সন্ধ্যার পর সেই ব্যানার সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে, কারা এই ব্যানার সরিয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।    

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা কমিটির নেতারা এ ব্যানার ঝুলিয়ে দেন। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা কমিটির আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজু। ব্যানারে লেখা আছে, ‘মুজিব পাবলিক টয়লেট। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১৭ বছরের ক্ষোভ ঝাড়ুন। সৌজন্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, রাজশাহী।’

নাহিদুল ইসলাম সাজু বলেছেন, “আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে চাইছে। আমরা তা হতে দেব না। কয়েকদিন আগে এখানে আওয়ামী লীগের লোকজন শুভ উদ্বোধনের ব্যানার ঝুলিয়ে যায়। আমরা বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই।”

বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় গিয়ে দেখা গেছে, যে স্থানে ব্যানার ঝোলানো হয়েছিল, তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কে বা কারা সরিয়েছেন, তা কেউই বলতে পারছেন না। স্থানীয়দের ধারণা, ইফতারের সময় এসে কেউ ব্যানারটি সরিয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের এই ব্যানার ঝোলানো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এর আগে গত শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে কে বা কারা ধ্বংসপ্রাপ্ত রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে একটি ব্যানার ঝোলানো হয়েছিল। এতে লেখা ছিল ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজশাহী মহানগর শাখা কার্যালয় শুভ উদ্বোধন করা হলো’। পরদিন শনিবার দুপুরে ব্যানারটি খুলে পুড়িয়ে দেন বিএনপির নেতারা।  

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। এর পর গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদি নিহতের পর উত্তেজিত ছাত্র-জনতা পরিত্যক্ত ভবনটির অবশিষ্ট অংশও ধ্বংস করে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে ফেলেন। এরপর থেকে স্থানটি ফাঁকা পড়ে ছিল।