জাতীয়

অনিয়ম রোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান বিমানমন্ত্রীর

যাত্রীসেবা নিশ্চিত কর‌তে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দি‌য়ে‌ছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) এবং প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বৃহস্প‌তিবার (৫ মার্চ) ঢাকার কুর্মিটোলায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বেবিচকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায়  এ নি‌র্দেশনা দেন তারা।

এ সময় তারা অনিয়ম রোধে সরকা‌রের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান জা‌নি‌য়ে‌ছেন।

সভায় শুরুতে উপস্থিত কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ইতিহাস এবং দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়।

পরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সরেজমিনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন করেন এবং এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এছাড়া দ্রুত টার্মিনালটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য চালু করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় তারা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো ভিলেজ ও ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনালও পরিদর্শন করেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

বিমানবন্দরের লাউঞ্জে দায়িত্বরত কর্মচারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী বলেন, “বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের প্রতি সেবার মান উন্নত করা এখন সময়ের দাবি। অনেক প্রবাসী ভাই-বোন দেশের বিমানবন্দরে এসে বিভিন্ন বিষয় বুঝতে না পেরে ভোগান্তির শিকার হন।”

সেবার ধরন ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা যেন কোনো ধরনের কষ্ট না পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এবং সেই অর্থ থেকেই আমাদের বেতন হয়। তাই তাদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করতে হবে।”

তিনি আরো জানান, সেবার মান নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “প্রবাসী কর্মীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে তাদের ‘স্যার’ সম্বোধন করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বিমানবন্দরের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেন।”

তিনি আরো বলেন, “ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সব পর্যায়ে জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে।”

উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেবার মান উন্নয়ন এবং যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ মন্ত্রণালয় ও বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।