সারা বাংলা

চাঁদা না পেয়ে স্কুলছাত্রীর জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

কক্সবাজারের টেকনাফে চাঁদা না পেয়ে এক স্কুলছাত্রীর জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মহিমা শবনম মনির (১৮) মা মনোয়ারা বেগম টেকনাফ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৪ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালায়। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তারা জমি দখলে ব্যর্থ হলেও জমি ভোগদখলে রাখতে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দেয়। রাত ১১টার দিকে ভুক্তভোগীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযুক্তরা হলেন- টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দরগারছড়া এলাকার মৃত সৈয়দ হোসনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাইফী (৪৮), উত্তর লম্বরীর মৃত মকতুল হোসনের ছেলে জাফর আহমদ (৫০), হাতিয়ার ঘোনার মৃত নুর আহমদের ছেলে ইউনুস (৪০) এবং একই এলাকার কবির আহমদের ছেলে আবদুর রহমান (৩০)। অজ্ঞাতনামা আরো ৭-৮ জন এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, স্কুলছাত্রী মহিমা শবনম মনির নামে নিবন্ধিত জমিটি দীর্ঘদিন ধরে তাদের দখলে রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি যোগসাজশে তা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও অভিযুক্তরা সমাধান মানেননি। সর্বশেষ ৪ মার্চ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে জমিতে গিয়ে দখলের চেষ্টা চালানো হয়। বাধা দিলে ভুক্তভোগীর পরিবারকে গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সরে যায়।

অভিযোগ অস্বীকার করে সাইফুল ইসলাম সাইফী জানান, উত্তর লম্বরীতে অবস্থিত একটি ইসলামিক গণপাঠাগারের জমি থেকে কিছু লোক গাছ কাটছিল। তিনি বাধা দিতে গেলে উল্টো হামলার শিকার হন। পাঠাগারটি প্রায় ৪৫ বছর ধরে সেখানে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, হাতিয়ার ঘোনা এলাকার জমির মালিক অলী আহমদ নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেলে তার স্ত্রী জাবেদা খাতুন ও বোনরা জমির ওয়ারিশ হন। গত বছরের ১৩ আগস্ট তারা জমিটি মহিমা শবনম মনির কাছে বিক্রি করেন। তবে অলী আহমদের পালিত মেয়ে মোমেনা খাতুন নিজেকে ওয়ারিশ দাবি করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেন।

ইসলামিক পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তৈয়বুর রহমান জানান, ১৯৮৫ সালে হাজ্বী অলী আহমদ পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আর সংস্কার করা হয়নি। জমিটি পাঠাগারের নামে লিখিতভাবে দান করা হয়নি বলেও তিনি জানান।

অলী আহমদের ভাগ্নে নুর আহাম্মদ জানান, জমিটির আরএস, বিএস ও বন্দোবস্ত অলী আহমদের নামেই ছিল। তার মা ও ফুফিসহ ওয়ারিশরা জমিটি শবনম মনির কাছে বিক্রি করেছেন এবং তিনি নিজেও এতে স্বাক্ষর করেছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জালাল আহমদ বলেন, উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করে তদন্তের পর শবনম মনির পক্ষে সুপারিশ করা হয়েছে। সেই ভিত্তিতে জমির ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে একটি পক্ষ জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”