আন্তর্জাতিক

ইরানের পর কিউবা এখন সময়ের ব্যাপার: ট্রাম্প 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার কিউবার সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্র কিউবার দিকেও পদক্ষেপ নিতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) হোয়াইট হাউসে ফুটবল ক্লাব ইন্টার মিয়ামির খেলোয়াড়দের স্বাগত জানানোর সময় ট্রাম্প এই হুমকি দেন। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কিউবার বিষয়ে তিনি দারুণ কাজ করছেন। 

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নতুন নিষেধাজ্ঞাও জোরদার করেছে।

ট্রাম্প বলেন, “কিউবায় যা ঘটছে, তা অবিশ্বাস্য। আমরা আগে এই কাজটা (ইরান) শেষ করতে চাই। তারপর সেটা (কিউবায় শাসন বদল) শুধু সময়ের ব্যাপার।”

ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে কিউবার রাজধানী হাভানার কমিউনিস্ট সরকারকে উৎখাত করার জন্য দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে আসছেন।

গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র যখন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে, তখন ট্রাম্প ঘোষণা দেন ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় যাওয়া তেলের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই তেল সরবরাহ কিউবার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সহায়তা ছিল, কারণ দেশটি বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় নিজের নীতিকে এগিয়ে নিতে ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকিও দিয়েছেন। লাতিন আমেরিকার ক্ষেত্রেও তিনি আগেই বলেছিলেন, কিউবা শিগগিরই ভেঙে পড়তে পারে।

লাতিন আমেরিকায় কথিত মাদক পাচারের জাহাজগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এসব হামলাকে অবৈধ বলা হলেও ট্রাম্প এসব সীমাবদ্ধতার বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেননি।

তিনি বলেন, “আমরা অনেকভাবে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছি। আমার প্রথম মেয়াদে আমি সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করেছি। আমরা এটি ব্যবহার করছি, আমি যতটা চাই তার চেয়ে বেশি। কিন্তু যখন ব্যবহার করি, তখন দেখা যায় এটি সত্যিই কাজ করে।”

“ভেনেজুয়েলায় যা হয়েছে, আর ইরানে ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানের মতো পদক্ষেপ; যা বর্তমান পরিস্থিতির ভিত্তি তৈরি করেছে, এসব সত্যিই অবিশ্বাস্য।”