নারী এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বে শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠল মাঠেই। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে টানা আক্রমণ আর দ্রুতগতির ফুটবলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ভেঙে দিয়ে ৫-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এই হারে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কঠিন চাপে পড়েছে লাল-সবুজের দল।
শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে উত্তর কোরিয়া। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ৩-০ গোলের জয় পাওয়া দলটি বাংলাদেশকে চাপে রেখে খেলা চালায়। তবু প্রথমার্ধে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে পিটার জেমস বাটলারের শিষ্যরা।
প্রযুক্তির সহায়তায় তিনবার গোল থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। একবার হাত দিয়ে বল স্পর্শ, একবার গোলরক্ষকের ওপর ফাউল এবং আরেকবার অফসাইডের কারণে কোরিয়ানদের তিনটি গোল বাতিল হয়। ৩৫ মিনিটে তাদের একটি জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
গোলরক্ষক মিলি আক্তারও কয়েকটি দুর্দান্ত রক্ষণ করে দলকে বাঁচিয়ে রাখেন। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত গোলশূন্য থাকলেও যোগ করা সময়ে ছন্দ হারায় বাংলাদেশ।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে বক্সের ভেতর জার্সি ধরে টানার ঘটনায় পেনাল্টি পায় উত্তর কোরিয়া। স্পট কিক থেকে তারা এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে। এর মাত্র দুই মিনিট পর রক্ষণভাগের ভুলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে তারা।
বিরতির পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও আফঈদা খন্দকার, ঋতুপর্ণা চাকমারা কোরিয়ার সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেননি। উল্টো দ্রুত পাল্টা আক্রমণে আরও তিনবার জাল কাঁপায় উত্তর কোরিয়া।
পুরো ম্যাচে বল দখলে ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় কোরিয়ানদের। তারা মোট ১৮টি শট নেয়, যার ৯টি ছিল লক্ষ্যে। বাংলাদেশ শট নিতে পেরেছে মাত্র ৪টি।
গ্রুপের প্রথম ম্যাচে চীনের কাছে ০-২ ব্যবধানে হেরে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ফলে টানা দুই পরাজয়ে এখন চাপে দলটি। কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয় ছাড়া বিকল্প নেই।
আগামী সোমবার সেই ম্যাচেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের ভাগ্য। তিন গ্রুপের তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা দুইটি দল শেষ আটে উঠবে। তাই আশা টিকিয়ে রাখতে আফঈদা-ঋতুপর্ণাদের সামনে এখন জয়ের লড়াই।