সারা বাংলা

তেল সংকটের গুঞ্জন, রাজশাহীতে পেট্রোল পাম্পে ভিড়

তেল সংকটের গুঞ্জনে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন চালকদের মধ্যে ট্যাঙ্ক পূর্ণ করে জ্বালানি নেওয়ার হিড়িক পড়েছে। এতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে হঠাৎ করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে। কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রাখতে দেখা গেছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশন ঘুরে এবং জ্বালানি বিক্রয়কারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। 

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হঠাৎ করেই ক্রেতাদের চাপ বেড়ে গেছে। বেশিরভাগ চালকই ভবিষ্যতে তেল সংকটের আশঙ্কায় যানবাহনের ট্যাঙ্ক পূর্ণ করে জ্বালানি নিচ্ছেন। এতে দ্রুত পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের মজুত কমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় মোট ২৭৯টি ফিলিং স্টেশন আছে। রাজশাহীতে আছে ৪২টি। তিন দিন ধরে এসব স্টেশনে পেট্রল ও অকটেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে পবা উপজেলার শাহ মখদুম এয়ারপোর্ট-সংলগ্ন এলাকায় হাবিব ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, সব ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। সেখানে টাঙানো একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকা, কারে ১ হাজার টাকা এবং মাহিন্দ্রায় ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নওহাটা বাজার এলাকার রুচিতা ফিলিং স্টেশনেও জ্বালানি বিক্রি বন্ধ থাকতে দেখা যায়। সেখানে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের ভিড় দেখা গেছে।

রুচিতা ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল নিয়ে তেল নিতে এসেছিলেন আনোয়ার হোসেন। কিন্তু, পাম্পে পেট্রোল না থাকায় তিনি জ্বালানি নিতে পারেননি। পরে নিজের মোটরসাইকেলটি ঠেলতে ঠেলতে সেখান থেকে চলে যেতে দেখা যায় তাকে। 

ক্ষোভ প্রকাশ করে আনোয়ার হোসেন বলেন, “হঠাৎ করে পাম্পে তেল না থাকায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।”

রুচিতা ফিলিং স্টেশনের এক বিক্রয়কর্মী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দেড় থেকে দুই গুণ বেশি ছিল। বেশিরভাগ ক্রেতাই ট্যাঙ্ক পূর্ণ করে জ্বালানি নিচ্ছেন। এতে দ্রুত মজুত কমে যাওয়ায় কিছু সময়ের জন্য বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে।

রুচিতা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার পঞ্চম রায় জানান, তাদের পাম্পে মোট মজুত থাকে ১৫ হাজার ৪০০ লিটার জ্বালানি। নিয়ম অনুযায়ী রিজার্ভ ট্যাঙ্কে অন্তত ২ হাজার লিটার রাখতে হয়। কিন্তু, ডিপো থেকে তেলবাহী গাড়ি না আসায় মজুত দ্রুত কমে গেছে।

তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবার রাতেই বেশিরভাগ জ্বালানির মজুত শেষ হয়ে গেছে। আশপাশের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন তেল দেওয়া বন্ধ করায় চাপ আরো বেড়েছে। বর্তমানে পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন নেই, কেবল ডিজেল আছে। গত রাতে ডিপো থেকে গাড়িতে পেট্রোল দেওয়া হয়নি, শুধু দুটি চেম্বারে ডিজেল দিয়ে পাঠানো হয়েছে।”

রাজশাহী পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মমিনুল হক বলেছেন, “বাঘাবাড়ি তেলের ডিপোতেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। রাজশাহীতে যে মজুত আছে, তা দিয়ে শনিবার পর্যন্ত চলা যাবে। প্রতিটি পাম্পকে অল্প তেল বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারও নির্দেশনা জারি করেছে। এর বাইরে আপাতত আমরা তেল দেব না।”

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) উম্মে কুলসুম সম্পা বলেছেন, “ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রাখার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কোনো ফিলিং স্টেশনে মজুত থাকা সত্ত্বেও তেল বিক্রি না করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”