খেলাধুলা

নিউ জিল্যান্ডের প্রথম নাকি ভারতের তৃতীয়?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের ফাইনালে রোববার মাঠে নামবে ভারত ও নিউ জিল্যান্ড। এজন্য প্রস্তুত আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের মঞ্চ। আগের নয় ফাইনালের মধ্যে ভারত তিনবার ও নিউ জিল্যান্ড একবার শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচ খেলেছে।

এর মধ্যে ভারত দু’বার ফাইনাল জয়ের স্বাদ পেলেও, নিউ জিল্যান্ডকে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। আজ ভাগ্যদেবী কার দিকে মুখ তুলে তাকাবে? নিউ জিল্যান্ড প্রথম শিরোপা পাবে নাকি ভারত পাবে তৃতীয় শিরোপা?

গত ১৯ বছরে ছোট্ট ফরম্যাটের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে কোনো দল এখন পর্যন্ত তিনবার শিরোপার স্বাদ পায়নি, তেমনি পারেনি টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হতে। ভারতের (২০০৭, ২০২৪) মতো দুটি করে শিরোপা আছে ইংল্যান্ড (২০১০, ২০২২) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের (২০১২, ২০১৬)। ভারতের সামনে এবার নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার হাতছানি। নিজ আঙিনায় অর্জনের নতুন ইতিহাস লেখার বড় সুযোগ ‘ডিফেন্ডিং’ চ্যাম্পিয়নদের। অন্যদিকে অনেকটা অবাক করে ফাইনালে পা রাখা নিউ জিল্যান্ড অধরা শিরোপার স্বপ্নে বিভোর। নিউ জিল্যান্ড ২০২১ সালে একবারই ফাইনালে উঠে হেরেছে অস্ট্রেলিয়ার কাছে।

চেনা মাঠ, চেনা কন্ডিশন, দর্শকদের বিশাল সমর্থন- এ রকম কিছু সুবিধা তো পাওয়া যায়ই। কিন্তু মাঠে সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে হয়। সেই চাপটাই আজ নিতে হবে ভারতকে। স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ১ লাখ ২০ হাজারের কাছাকাছি। বলার অপেক্ষা রাখে না, নিউ জিল্যান্ডের সমর্থক পাওয়া যাবে গোটা দুয়েক বা তিনেক। বাকিরা তো শুধু ভারত-ভারত বলেই গলা ফাঁটাবে।

ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতা কিংবা টানা দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়া- টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এর আগে কোনো দেশই এটা করে দেখাতে পারেনি। সূর্যকুমার যাদবের দল কি পারবে ইতিহাসটা নতুন করে লিখতে?

অধিনায়করা কী বলছেন?

মিচেল স্যান্টনার, অধিনায়ক নিউ জিল্যান্ড

‘‘আমাদের লক্ষ্য থাকবে গ্যালারির শব্দ থামিয়ে দেওয়া। টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে অনেক কিছুই মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। আমরা যদি নিজেদের খেলাটা ঠিকভাবে খেলতে পারি, তাহলে বড় দলকেও চমকে দেওয়া সম্ভব।”

“সবাই জানে আমরা সম্ভবত ফেভারিট নই। কিন্তু এতে আমাদের সমস্যা নেই। আমরা জানি, ছোট ছোট অনেক কাজ ঠিকভাবে করতে পারলে দলগতভাবে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দিতে পারব। তাতে ট্রফি জয়ের সুযোগ তৈরি হবে। আর ট্রফি তুলতে গিয়ে যদি কয়েকটি হৃদয় ভেঙে যায়, তাতেও আপত্তি নেই।”

সূর্যকুমার যাদব

অধিনায়ক ভারত

“সবাই দেখছি একই কথা বলছে। কিছু তো নতুন বলতে বলুন। দলের পরিবেশ খুব ভাল। ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারা আমার কাছে বিশেষ সম্মানের। দেশের মাঠে একটা অসাধারণ স্টেডিয়ামে খেলতে নামব। খুবই ভাল লাগছে।”

“আমাদের দলে এমন অনেক ক্রিকেটার রয়েছে যারা ফাইনাল খেলেছে। তারা ইতিমধ্যেই অনেক অভিজ্ঞ। আমাদের কোচও একটা ফাইনাল খেলেছেন। বুমরাহ, হার্দিক, অক্ষরের মতো ক্রিকেটারেরা আইসিসি প্রতিযোগিতার ফাইনাল। তাই ওদের সঙ্গে কথা বলে অনেক উপকার হয়। বাসে যেতে যেতে বা নৈশভোজের সময় আমরা সেটাই আলোচনা করি। তাতে অনেক দিক উঠে আসে। এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞতার দাম তো আছেই।”

হেড টু হেড

টি- টোয়েন্টিতে দুইদল ৩০ ম্যাচ খেলে ভারতের জয় ১৮টি, নিউ জিল্যান্ডের ১১টি, অপরটি টাই। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে তিন ম্যাচে মুখোমুখি হয়েও কিউইদের একবারও হারাতে পারেনি ভারত!

যেভাবে ফাইনালে নিউ জিল্যান্ড

গ্রুপ পর্বে ৪ ম্যাচের মধ্যে ৩টিতে জিতে সুপার এইটে উঠে নিউ জিল্যান্ড। আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কানাডাকে হারালেও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারে কিউইরা।

সুপার এইটে বৃষ্টির কারণে পাকিস্তানের সাথে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিউ জিল্যান্ড। এরপর শ্রীলংকার বিপক্ষে জিতলেও, ইংল্যান্ডের কাছে হেরে সেমিফাইনালের আগেই ছিটকে পড়ার শঙ্কায় পড়ে কিউইরা। কিন্তু ভাগ্যের সহায়তায় রান রেটে এগিয়ে থাকার সুবাদে সেমিফাইনালে নাম লেখায় তারা।

সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে নিউ জিল্যান্ড।

ভারত যেভাবে ফাইনালে

গ্রুপ পর্বে ৪ ম্যাচের সবগুলোতে জিতে পূর্ণ ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে সুপার এইটে উঠে ভারত। যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়া, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

সুপার এইটে ৩ ম্যাচের মধ্যে ২টিতে জয় ও ১টিতে হেরে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ভারত।

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে সুপার এইট শুরু করলেও পরের দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে ভারত। শেষ চারে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে টিম ইন্ডিয়া। 

দুই দলের লড়াইয়ের স্রোত মিশে গেছে নাটকীয়ভাবে। নিউ জিল্যান্ড একবিংশ শতাব্দীতে সাদা বলের ক্রিকেটে কখনো জিততে পারেননি ফাইনালের শিরোপা। ভারত আহমেদাবাদের ফাইনালেও পায়নি শিরোপা। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা হাতছাড়া করে অস্ট্রেলিয়ার কাছে। আজ ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামে কার ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগে সেটাই দেখার অপেক্ষা।