আন্তর্জাতিক

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতে ইসরায়েলের বড় আঘাত

ইরানের সামরিক খাতের পাশাপাশি এবার শিল্প খাতকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসরায়েল। রবিবার (৮ মার্চ) ইরানের রাজধানী তেহরান ও আশেপাশের পাঁচটি তেল সংক্রান্ত স্থাপনায় হামলার খবর জানায় আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। 

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদির মতে, ইরানের জ্বালানি স্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতগুলোতে ইসরায়েলের এই হামলা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ‘একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা’।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, “এই প্রথম তেহরানসহ ইরানের শহরগুলো এ ধরনের হামলার অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।” 

তিনি আরো যোগ করেন, “এখন স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ১২টা, কিন্তু ধোঁয়ার কারণে মনে হচ্ছে এখন রাত। আমরা সূর্য দেখতে পাচ্ছি না।”

ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া তেলের ডিপো থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল তেহরানের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার কিছু অংশে ঢুকে পড়েছে। এতে ইরানের রাজধানীর সড়কে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্স-এ ‘লিভিং ইন তেহরান’ নামক একটি সংস্কৃতি ও শিল্প বিষয়ক অ্যাকাউন্টের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের একটি রাস্তার দীর্ঘ অংশ জুড়ে আগুন জ্বলছে।

তেল স্থাপনাগুলোতে বিস্ফোরণের ফলে বৃষ্টির পানি বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। এই বৃষ্টিতে ত্বকে রাসায়নিক ক্ষত এবং ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে।

টেলিগ্রামে দেওয়া রেড ক্রিসেন্টের জরুরি নির্দেশনাগুলো হলো- বিস্ফোরণের পর বৃষ্টি চলাকালীন কোনো অবস্থাতেই ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। বাইরে থাকলে দ্রুত কংক্রিট বা ধাতব ছাদের নিচে আশ্রয় নিন; গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া যাবে না। বৃষ্টির পানি ত্বকের সংস্পর্শে এলে সেই জায়গা ঘষবেন না, শুধুমাত্র অবিরাম ঠান্ডা পানির ধারা দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

তেল শোধনাগারগুলোতে হামলার পর তেহরানের গভর্নর বাসিন্দাদের জন্য তেলের কোটা কমিয়ে দিয়েছেন।

আল-জাজিরার খবর অনুযায়ী, ব্যক্তিগত কার্ডের মাধ্যমে প্রতিদিন তেলের কোটা ৩০ লিটার থেকে কমিয়ে ২০ লিটারে আনা হয়েছে।

তেহরানের গভর্নর আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, সরবরাহ সাময়িক বিঘ্নিত হলেও সাধারণ মানুষের চিন্তার কিছু নেই। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই এই সংকট সমাধান করে আগের কোটায় ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে।

এদিকে ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, ইরানের তেল স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলের হামলা ছিল যুদ্ধের একটি বড় ধরনের বিস্তৃতি এবং ‘আগামী দিনগুলোতে আমরা আরো বড় ধরনের সংঘাত দেখতে পাবো।”

ইসরায়েলের ‘রেডিও ১০৩’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোহেন আরো বলেন, “ইরানের বর্তমান শাসনের ক্ষতি করতে সাহায্য করবে এমন সব লক্ষ্যবস্তুই আমাদের তালিকায় রয়েছে।”

যুদ্ধের পরিকল্পিত সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য যে সময়সীমা আশা করছি, তা আমাদের জানা আছে। যুদ্ধের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং ময়দানে এর উন্নয়ন ঘটছে। আমরা এমন পরিস্থিতিতে থাকতে চাই না যেখানে আরো এক বা দুই বছর পর আমাদের আবার নতুন কোনো যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হয়।”