রাজশাহীর রেশম কারখানায় আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে শ্রমিক নিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল এবং বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে নগরীর সুলতানাবাদে অবস্থিত বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহী রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়ের একটি কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেশম শ্রমিক দল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয়তাবাদী রেশম শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন তাসেন।
জসিম বলেন, “১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাজশাহীতে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে রেশম খাতে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জিত হয়। এক সময় রেশম বোর্ডে মোট ৫৮৩ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন।
তিনি আরো বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে বিভিন্ন সময়ে ওই ৫৮৩ জন শ্রমিকের মধ্যে ৩২৭ জনকে বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে মাত্র ২৫৬ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।”
জসিম উদ্দিন জানান, অর্থ মন্ত্রণালয় ছাঁটাই হওয়া ৩২৭ জন শ্রমিককে কাজে পুনর্বহালের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু এখনো রেশম বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদের বেতন-ভাতা প্রদান করছে না। ফলে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি বলেন, “আগামী ৩১ মার্চের পর আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে টেন্ডারের মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা শ্রমিকদের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অনেক অভিজ্ঞ শ্রমিক চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।”
শ্রমিক নেতাদের দাবি, তাদের অনেকেই ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে রেশম চাষ ও সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ। ঠিকাদারের মাধ্যমে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগ দেওয়া হলে তারা স্থায়ী শ্রমিকের তালিকা থেকে চিরতরে বাদ পড়ে যেতে পারেন।
এ কারণে আউটসোর্সিং পদ্ধতি বাতিল, ৫৮৩ জন শ্রমিককে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং নিয়মিত বেতন প্রদানের দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী রেশম শ্রমিক দলের সভাপতি শাহ আলম লুটু, সাংগঠনিক সম্পাদক দীপক কুমার এবং মীরগঞ্জ বীজাগারের সভাপতি আবুল কালাম আজাদসহ অন্যান্য নেতারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন) নাছিমা খাতুনকে একাধিকবার ফোন করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। বোর্ডের অর্থ ও পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক ড. এম এ মান্নানের মুঠোফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।