গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী এক যুবলীগ কর্মী প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া পরে বাবার দাফনে অংশ নিয়েছেন। তার নাম চঞ্চল মিয়া। তিনি কোটালীপাড়া উপজেলা যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। তবে, সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি।
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় কোটালীপাড়ার চিত্রাপাড়া এম এম খান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চঞ্চল মিয়ার বাবা আব্দুল হকের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, গত রাত ৯টার দিকে উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে মারা যান আব্দুল হক। তিনি উপজেলার গচাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বাবার জানাজায় অংশ নিতে রবিবার সকালে চঞ্চল মিয়াকে প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেন তার স্ত্রী বিলকিস বেগম। আবেদনের প্রেক্ষিতে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
তবে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় প্রায় আড়াইটার দিকে মুক্তি পান চঞ্চল মিয়া। পরে পুলিশি পাহারায় তাকে বেলা ৩টার দিকে কোটালীপাড়ার চিত্রাপাড়া এম এম খান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে পৌঁছানোর আগেই আব্দুল হকের জানাজার নামাজ শেষ হয়ে যায়। পরে হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার লাশের খাটিয়া কাঁধে তুলে চিত্রাপাড়া কবরস্থানে দাফনের জন্য নিয়ে যান চঞ্চল মিয়া। দাফন শেষে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ তাকে আবার গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে নিয়ে যায়।
দাফনের সময় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে চঞ্চল মিয়া আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি এক হতভাগ্য ছেলে। মিথ্যা মামলায় পাঁচ মাস ধরে জেলে আছি। বাবার অসুস্থতার সময় তার পাশে থাকতে পারিনি। এমনকি বাবার জানাজার নামাজেও অংশ নিতে পারলাম না। আমার বাবাকে সবাই ক্ষমা করে দেবেন।”
চঞ্চল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম বলেন, “আমার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। গত বছরের ৯ অক্টোবর ঢাকার হাতিরপুল এলাকার ভূতের গলি থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে কোটালীপাড়ার ওয়াবদারহাটে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আমার স্বামী নিরপরাধ।”
কোটালীপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার বলেন, “প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর বেলা ৩টার দিকে পুলিশি পাহারায় জেলা কারাগার থেকে চঞ্চল মিয়াকে কোটালীপাড়ায় আনা হয়। তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার দাফনে অংশ নেন এবং দাফন শেষে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।”