রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদ জামাতের ইমাম নির্বাচন নিয়ে সংঘর্ষে মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন (৫৬) নিহতের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নিহতের ছেলে ইমরান নাজির বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বিএনপির স্থানীয় সাত নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নিহত আলাউদ্দিন সাঁকোয়া মাদ্রাসার মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। তাকে জামায়াতের কর্মী হিসেবে দাবি করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন মামলার করার তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আলাউদ্দিন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছি। আশা করছি, দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। এর সঙ্গে ময়নাতদন্তও করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উঠে আসবে কীভাবে তিনি মারা গেছেন।’’
এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মোহনপুরের সাঁকোয়া এলাকায় ঈদের নামাজে ইমাম নির্ধারণকে কেন্দ্র করে মডেল মসজিদে মুসল্লিদের বৈঠক ছিল। সেখানে আলাউদ্দিনের ছেলেদের সঙ্গে বিএনপিকর্মী ওমর ফারুক, রাসেল, আব্দুল করিম, আব্দুল কুদ্দুসসহ কয়েকজনের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় বিএনপির কর্মীরা আলাউদ্দিনকে ফেলে দিয়ে তার বুকের ওপর উঠে বসে বলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন। এতে ঘটনাস্থলে আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয়। তবে বিএনপির দাবি, স্ট্রোকে আক্রান্ত আলাউদ্দিন হয়ে মারা গেছেন।
তবে ঘটনার পর স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এক বিএনপি কর্মীর মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ও ভাঙচুর করে জামায়াতকর্মীরা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এদিকে আলাউদ্দিনের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। রবিবার (৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাঁকোয়া মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজা হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মজিবর রহমান।
জানাজায় বক্তব্য দেন, রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল বারী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী মহানগর ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী জেলা শাখা সূরা কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা এফ এম ইসমাইল আলম আল হাসানি, মাওলানা আব্দুল খালেক, জেলার আমির আব্দুল খালেক, মোহনপুর উপজেলার আমির মাওলানা আব্দুল আওয়াল, নায়েবে আমির ভাইস প্রিন্সিপাল আবুল কালাম আজাদ।
মোহনপুর উপজেলা বিএনপি সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন, মরহুম আলাউদ্দিনের বড় ছেলে ইমরান নাজিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এদিকে জানাজার আগে সাঁকোয়া মোড় ‘শহীদ আলাউদ্দিন চত্বর’ ঘোষণা করা হয়।