ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে ঝালকাঠির নলছিটি প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান হাদির বোন মাসুমা সুলতানা হাদি।
তিনি জানান, শুধু ফয়সাল নয়; হত্যার মূল মাস্টার মাইন্ড, অর্থযোগান দাতা, ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীসহ সব ষড়যন্ত্রকারীদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পর প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পুলিশ। গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ওসমান হাদি পরিবার গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে মাসুমা হাদি বলেন, “প্রকাশ্য দিবালোকে ওসমান হাদিকে গুলি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক দেশ ত্যাগ করে। আজ ওসমান হাদি হত্যার ৮৭ দিন পার হলেও সরকারের তদন্তকারী সংস্থা আদালতে গ্রহণযোগ্য অভিযোগপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা বিগত সরকারের কাছে বারবার জাতিসংঘের মাধ্যমে হাদি হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি জানালেও তারা কর্ণপাত করেনি।”
তিনি বলেন, “গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে জনগণের সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে শহীদ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের বিচারের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করি।”
ওসমান হাদির বোন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দী বিনিমিয় চুক্তি অনুসারে হত্যাকারী ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে এনে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখির দাবি জানান।
মাসুমা হাদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “হাদি হত্যার বিচার কাজে যদি কোনো ধরনের নাটক মঞ্চাস্ত করার অপচেষ্টা করা হয়, তবে বাংলাদেশপন্থি সব জনতাকে সঙ্গে নিয়ে তা রুখে দেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ওসমান হাদির ভগ্নিপতি আমির হোসেন, ভলানটিয়ার অব নলছিটির আহ্বায়ক মো. শাহাদ্যৎ আলম, সেচ্ছাসেবক দল সভাপতি তৌহিদ আলম মান্না ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর কবির রানা।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয় নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। অভিযোগ রয়েছে চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা ফয়সাল করিম। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। গত ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শরিফ ওসমান বিন হাদি।