ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, “তাদের ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ২টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “হাদির হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা জোরালো উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যা যা করণীয়, সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
তিনি বলেন, “অপরাধীরা দেশের বাইরে পালিয়ে গেলেও তারা আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। তাদের আইনের আওতায় আসতেই হবে এবং দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”
এসময় জেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পর প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পুলিশ। গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার তাদের দুইজনকে কলকাতার একটি আদালতে হাজির করা হয়। রবিবার অভিযুক্তদের বিধাননগর আদালতে হাজির করার পরে তাদের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা ইনকিলাব মঞ্চ-এর মুখপাত্র হাদিকে গুলি করে এবং এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন হাদি।