পাবনার চাটমোহর উপজেলার মুলগ্রাম ইউনিয়নের খতবাড়ি গ্রামে ভূমিহীন হিসেবে স্থায়ী বন্দোবস্ত পাওয়া এক ব্যক্তির ৬৬ শতাংশ খাসজমি জবরদখর করার অভিযোগ উঠেছে শুকুর আলী ওরফে শুকলাল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পাশাপাশি হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে শুকলালসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অভিযোগে ও জমির সকল কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, খতবাড়ি মৌজার আর এস খতিয়ান নং ১ এবং আরএস দাগ নং ১০৭৮ এর ৬৬ শতাংশ খাসজমি ১৯৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক পাবনা থেকে ভূমিহীন হিসেবে স্থায়ী বন্দোবস্ত পেয়ে ভোগ দখল করে আসছিলেন মুলগ্রাম ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের বেল্লাল হোসেন। ওই জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল খতবাড়ি গ্রামের শুকুর আলী ওরফে শুকলাল, শাহা আলম, আয়নাল গংদের সঙ্গে।
স্থানীয়রা জানান, বিরোধের জেরে গত ৪ মার্চ সকালে জমিতে থাকা বেল্লাল হোসেনের একটি দোকান ভাঙচুর করে মালামাল লুট করে নেয় শুকলালরা। পরে চাটমোহর থানায় ওইদিন রাতে জিডি করেন বেল্লাল হোসেন।
এ ঘটনায় গত ৫ মার্চ দুপুরে ঘটনাস্থলে সরেজমিন ঘুরে প্রতিবেদন করতে যান দুজন সংবাদকর্মী। সেখানকার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে স্থানীয়দের সাথে কথা বলার সময় খবর পেয়ে কিছু লোকজন নিয়ে হাজির হন শুকুর আলী ওরফে শুকলাল। তারা সংবাদকর্মী দুজনের কাজে বাধা দেন এবং তাদের অনুমতি ছাড়া কেন ছবি তোলা হচ্ছে ভিডিও করা হচ্ছে বলে চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে শুকুর আরী ওরফে শুকলাল বলেন, “এই জমি খাস নয়, মালিকানাধীন কেনা জমি।” ১৯৯০ সালের দিকে খতবাড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামের খবির হাজির ছেলে নুরুল হাজির কাছ থেকে ২৩ শতাংশ জমি কিনেছেন বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, “জমি কেনার পর থেকে তিনি ভোগ দখল করছিলেন। ২০০৮ সালের দিকে বেল্লাল হোসেন আওয়ামী লীগের ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে এই জমি জোর করে দখল করে নিয়েছিলেন। সেসময় এলাকার একটি হত্যা মামলায় আমাদের আসামি করায় পলাতক ছিলাম। জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে এসে দেখি, আমার জমি দখল করে নিয়েছেন বেল্লাল।”
শুকুর আলী বলেন, “এই জমির সাতজন অংশীদার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ সরকার দেশ ছেড়ে পালানোর পর আমি তাকে বলি আমার জমি ছেড়ে দিতে। কিছুদিন আগে বেল্লাল তার দোকান বিক্রি করে এখান থেকে সরে গেছেন। আমার জমি জোর করে দখল করতে যাবে কেন। সেই এত বছর জবর দখল করে রেখেছিল।”
তিনি বলেন, “জমির দলিল দেখতে চাইলে তিনি দেখাবেন বলে জানালেও পরে আর জমির কাগজপত্র দেখাননি। মোবাইল নম্বর দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর কথা বলে আসলেও তিনি আর পাঠাননি।”
ভুক্তভোগী বেল্লাল হোসেন বলেন, “আমি এত বছর ধরে জমি ভোগ দখল করে আসছি, কেউ কখনো বাধা দেয়নি। আমার বন্দোবস্তের সব কাগজপত্র দলিল আছে। আমার নামে বন্দোবস্ত হওয়ার পর সেটি আমার নামে নামজারি করে খারিজ করা হয়েছে। শুকলাল গংরা জেলা প্রশাসক, রাজশাহী বিভাগী কমিশনার অফিসে তিনবার অভিযোগ দিয়ে মামলা করে হেরে যায়। আমি তিনবারই আমার পক্ষে ডিগ্রি (রায়) পাই। তাদের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ বা দলিল নাই। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জোর করে জমি দখল করে নিয়েছে। আমি আওয়ামী লীগ করতাম সেটাই আমার অপরাধ। আমি ন্যায়বিচার চাই। তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা চাই।”
চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, “জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চাটমোহর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভারপ্রাপ্ত মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, “এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করে বলতে পারব ওই জমির বিষয়ে কার কি অবস্থান। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”