মরিয়ম বেগমের বয়স সত্তর বছরের কাছাকাছি। শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। বাস করেন খুলনা মহানগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। তার একমাত্র ছেলে মাসে মাত্র ৬ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। ঘরে বাবাহারা এক নাতনি আছে। ঘরভাড়া, সংসার খরচ এবং ওষুধ কিনতে হিমশিম খেতে হয় মরিয়মকে। এখন সরকারের দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তায় তার মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে। বৃদ্ধ বয়সে এসে এ ধরনের সরকারি সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত তিনি। ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে খুলনা মহানগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে হাজী শরীয়তুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে মরিয়ম বেগমসহ অন্য নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়। জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি শান্তির প্রতীক কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
মরিয়মের মতো উচ্ছ্বসিত অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তানজিলা বেগম। তিনিও ওই এলাকার বাসিন্দা। চার সদস্যের এ পরিবারের একমাত্র উপার্জনাক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তার স্বামী। তিনি ছিলেন জুটমিলের মেকানিক। মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চাকরি হারিয়েছেন। এখন বেকার।
নিজেদের জায়গায় করা ছোট ঘর ভাড়া দিয়েছেন তানজিলা দম্পতি। ঘরভাড়ার আয় দিয়ে চলে সংসার এবং একমাত্র কন্যার লেখাপড়া। এ অবস্থায় প্রতিমাসে আড়াই হাজার টাকা তার কাছে অনেক বড় পাওয়া। তানজিলা এ টাকা দিয়ে সংসারের খরচের পাশাপাশি ক্লাস ওয়ানে অধ্যনরত কন্যার লেখাপড়াও চালাতে পারবেন বলে আশাবাদী। অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
অপর উপকারভোগী জাকিয়া বেগম জানিয়েছেন, তিনি বেশ অসুস্থ। ওষুধ কেনার টাকা জোগানো কঠিন হয়ে পড়ে। সংসার চালাতেও অনেক কষ্ট হয়। এ কারণে ফ্যামিলি কার্ডের টাকায় অন্তত প্রতি মাসের ওষুধ কিনতে পারবেন। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোক্তার আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল হক, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক অনিন্দিতা রায়।