আন্তর্জাতিক

ইরানি হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান কাতারের

কাতার ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরিস্থিতিকে ‘অন্যায্য ও জঘন্য’ বলে অভিহিত করেছেন।

আল-খুলাইফি বলেন, “আমরা কাতারের ওপর হওয়া এই হামলার কঠোর নিন্দা জানাই। এটি সরাসরি আমাদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হেনেছে।” তিনি আরও জানান, কাতার কেবল সামরিক নয়, বরং বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক হামলাগুলোর বিষয়েও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

তবে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য গর্বিত, যারা প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে। একইসাথে কাতারের নাগরিক ও প্রবাসীরা যে ঐক্য ও ধৈর্য দেখিয়েছেন, তা অতুলনীয়।”

আল-খুলাইফি তেহরানের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “ইরানকে বুঝতে হবে যে আঞ্চলিক দেশগুলো তাদের শত্রু নয়। এই ধরনের আক্রমণ ইরানের কোনো উপকারে আসবে না, বরং এটি আমাদের দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্কের অপূরণীয় ক্ষতি করছে।”

কাতারের মতে, যুদ্ধের কোনো টেকসই সমাধান নেই। একমাত্র আলোচনার টেবিলে ফিরে আসাই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে পারে। ওমানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেও কাতার এই বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রসঙ্গে কাতারের মন্ত্রী জানান, দোহার সাথে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। কাতার যুক্তরাষ্ট্রসহ যুদ্ধের সব পক্ষকে ‘শান্তির পথে’ এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার জন্য উৎসাহিত করছে।

তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, “জিসিসি দেশগুলোর নিরাপত্তা কেবল আঞ্চলিক বিষয় নয়, এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। এই যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ববাজারের ওপর পড়ছে, তাই এটি নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন।”

ইরান কর্তৃক হোরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধার হুমকির বিষয়েও কাতার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আল-খুলাইফি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াতের স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ কাতারসহ বহু দেশ এই পথেই বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ করে।

কাতার সরকার পুনরায় পরিস্থিতি শান্ত করার এবং একটি রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে।