জাতীয়

শেরপুর-৩: গণভোট হচ্ছে না, ভোট ৯ এপ্রিল

শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। একই সঙ্গে তিনি জানান, বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (১১ মার্চ) আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি সচিব বলেন, “৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বগুড়া-৬ আসনের ক্ষেত্রে আগে গণভোট নেওয়া হয়েছিল। তবে শেরপুর-৩ আসনে গণভোটের ভোটসংখ্যা নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। এ কারণে সেখানে গণভোটের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।”

তিনি জানান, নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে যে ডেপ্লয়মেন্ট পরিকল্পনা ছিল, তার আওতায়ই এই দুই আসনের নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পরিচালিত হবে।

আখতার আহমেদ বলেন, “এবার কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে বডি–ওর্ন ক্যামেরা ও সুরক্ষা অ্যাপের ব্যবহার বাড়ানো হবে। আগে একটি কেন্দ্রে একটি বডি–ওর্ন ক্যামেরা থাকলেও এবার প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক ক্যামেরা ব্যবহার করা হতে পারে।বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে।”

তিনি আরো জানান, নির্বাচনে আট দিনের জন্য আনসার বাহিনী মোতায়েন থাকবে।এছাড়া বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনি তদন্ত কমিটি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে কাজ শুরু করেছেন।

এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

ইসি সচিব বলেন,“রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যেসব মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমা শেষ হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো আপিল পাওয়া যায়নি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে কোন আসনে কতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।”

তিনি জানান, এই নির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ওসিভি ও আইসিভি—দুই ধরনের পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা থাকবে।প্রবাসীদের জন্য ওসিভি ব্যালট আগামীকাল থেকে পাঠানো শুরু হবে। আর দেশের ভেতরে থাকা পোস্টাল ভোট গ্রহণ শুরু হবে ২৩ বা ২৪ মার্চের দিকে।

আখতার আহমেদ বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজস্ব কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকবে। তবে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আগের নির্বাচনের মতো এবারও কমান্ড, কন্ট্রোল ও কো-অর্ডিনেশনের ওপর জোর দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি।”

নির্বাচনকে ঘিরে কোনো চাপ বা উদ্বেগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, “এখন পর্যন্ত কমিশনের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই এবং কেউ কোনো অভিযোগও করেননি।”