ভালোবেসে ঘর বাঁধলেও ভেঙে গেল ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হংসিকা মোতওয়ানি ও সোহেল কাঠুরিয়ার সংসার। মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ফ্যামিলি কোর্ট তাদের ডিভোর্স আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
দ্য ফ্রি প্রেস জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পারস্পরিক সম্মতিরভিত্তিতে ডিভোর্সের আবেদন করেছিলেন হংসিকা মোতওয়ানি ও সোহেল কাঠুরিয়া। সমঝোতার অংশ হিসেবে হংসিকা কোনো খোরপোষ দাবি করেননি।
অভিনেত্রী হংসিকার আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট আদনান শেখ। তিনি বলেন, “বিয়ের পর খুবই কম সময় তারা একসঙ্গে ছিলেন। এরপরই বুঝতে পারেন যে, বিভিন্ন মতভেদ তাদের সম্পর্কে প্রভাব ফেলছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বভাব, দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনযাত্রার পার্থক্যের কারণে তাদের মধ্যে প্রায়ই মতবিরোধ ও ঝগড়া হতো।”
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ছোট ছোট বিষয় নিয়েও প্রায়ই বড় ধরনের তর্কে রূপ নিতো। ফলে একই ছাদের নিচে একসঙ্গে থাকা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা বারবার তাদের মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি সম্পর্ক ঠিক করার পরামর্শ দেন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুজনেই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, আলাদা হয় যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান।
পরে শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন হংসিকা-সোহেল। ২০২৪ সালের ২ জুলাই থেকে আলাদাভাবে বসবাস করছেন তারা। পরবর্তীতে আলোচনা ও পারস্পরিক সম্মতিতে ডিভোর্সের পথে পা রাখেন। আদালতে হলফনামাও জমা দিয়েছেন এই প্রাক্তন দম্পতি। তাতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে কেউ একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন না।
২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর ভারতের জয়পুরের মুন্ডোটা ফোর্ট অ্যান্ড প্যালেসে রাজকীয় আয়োজনে সাতপাকে বাঁধা পড়েন হংসিকা-সোহেল। দাম্পত্য জীবনের আড়াই বছরের মধ্যে বিচ্ছেদের গুঞ্জন হতাশ করে হংসিকার ভক্ত-অনুরাগীদের।
হৃতিক রোশান অভিনীত ব্যবসাসফল সিনেমা ‘কোই মিল গ্যায়া’। সিনেমাটিতে ছোট্ট টিনা চরিত্র দর্শকের মন কেড়েছিল। আর এ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন হংসিকা মোতওয়ানি। ছোট্ট সেই টিনার বয়স এখন ৩৪ বছর।
টিভি সিরিয়ালে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেন হংসিকা। পরে চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে নাম লেখান। ২০০৭ সালে তেলেগু ভাষার ‘দেশামুড়ুরু’ সিনেমায় প্রথম নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেন। তারপর তামিল, মালায়ালাম, কন্নড়, হিন্দি ভাষার অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছেন।