মালিনী শর্মার জন্ম দিল্লিতে ১৯৭৪ সালের ৫ জানুয়ারি। চলচ্চিত্র জগতে আসার আগে মডেল হিসেবে পরিচিতি গড়েন। মডেল হিসেবেও সফল ছিলেন। মিকা সিং এবং লাকি আলির মতো সংগীতশিল্পীর মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেন মালিনী।
মডেলিং জগতে সফল মুখ ছিলেন মালিনী। তারই ধারাবাহিকতায় বলিউডের প্রথম সারির নির্মাতা বিক্রম ভাটের নজরে পড়েছিলেন। ২০০২ সালে বিক্রমের পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘রাজ’। হরর ঘরানার এই সিনেমায় অভিনয় করেন বিপাশা বসু, ডিনো মরিয়া ও মালিনী। সেই সময়ে তারা তিনজনই ছিলেন বলিপাড়ার নতুন মুখ।
‘রাজ’ সিনেমা নির্মাণে ব্যয় হয় ৫ কোটি রুপি। মুক্তির পর বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে আয় করে ৩৭-৩৮ কোটি রুপি। সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত ‘দেবদাস’ সিনেমাও ২০০২ সালে মুক্তি পায়। ব্যবসার ক্ষেত্রে ‘দেবদাস’-এর পর ‘রাজ’ সিনেমা ছিল ওই বছরের সর্বোচ্চ আয়কারী দ্বিতীয় হিন্দি সিনেমা। ‘রাজ’ সিনেমায় অশরীরি চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান মালিনী। বলিউডের সেরা নবাগত অভিনেত্রী হিসেবে পুরস্কারও পান তিনি। কিন্তু বিপুল জনপ্রিয়তায় জল ঢেলে দেন নায়িকা নিজেই। বাদ সেধেছিল তার ব্যক্তিগত জীবন।
১৯৯৭ সালে বাঙালি অভিনেতা প্রিয়াংশু চ্যাটার্জিকে বিয়ে করেন মালিনী। ২০০১ সালে ‘তুম বিন’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন প্রিয়াংশু। ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমায়ই সাফল্য পান। তারপর সাফল্যের স্বাদ পান প্রিয়াংশুর স্ত্রী মালিনীও। জানা যায়, ‘রাজ’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন প্রিয়াংশু-মালিনীর সংসারে মনোমালিন্য শুরু হয়। ২০০১ সালেই বিবাহবিচ্ছেদ হয় তাদের। অন্যদিকে, মালিনী সাফল্য পেলেও বলিপাড়ায় আর ফিরতে চাননি।
২০০২ সালে মুক্তি পায় মুকেশ ভাট প্রযোজিত ‘গুনাহ’ সিনেমা। এ সিনেমার মুখ্যচরিত্রে অভিনয় করেন বিপাশা-ডিনো। অথচ নির্মাতাদের প্রথম পছন্দ ছিলেন না বিপাশা। বলিপাড়ায় জনশ্রুতি, ‘গুনাহ’ সিনেমায় ডিনোর বিপরীতে মালিনীকে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন নির্মাতারা। সেই প্রস্তাবে রাজিও হন অভিনেত্রী। কিন্তু শুটিং শুরুর ঠিক আগের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন তিনি। ‘গুনাহ’ সিনেমার শুটিং শুরুর দু’দিন আগে মালিনী জানান, এ সিনেমায় অভিনয় করবেন না তিনি। শেষ মুহূর্তে সিনেমাটির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে ডিনোর বিপরীতে বিপাশাকে নিয়ে নেন নির্মাতারা। সিনেমাটির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর আর বড় পর্দায় দেখা যায়নি মালিনীকে।
শোনা যায়, বিবাহবিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে, অভিনয় থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভিনয় থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলেও ক্যামেরার আড়ালে কাজ করেছিলেন মালিনী। ২০০৭ সালে ‘জাস্ট ম্যারেড’ সিনেমায় শিল্প নির্দেশক হিসেবে কাজ করেন এই অভিনেত্রী। ২০০৮ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘থোড়া প্যার থোড়া ম্যাজিক’। সাইফ আলী খান-রানী মুখার্জি অভিনীত এই সিনেমায় শিল্প নির্দেশকের দায়িত্ব পালন করেন মালিনী। তারপর আর বলিউডের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি তিনি।
বিবাহবিচ্ছেদের পর নিজেকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন মালিনী। কিন্তু ঠিক কী কারণে বাঙালি নায়কের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল তা নিয়ে কেউ প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ২০০৮ সালের পর বলিউড থেকে ‘হারিয়ে যান’ মালিনী। বলিপাড়ার একাংশের দাবি, বিবাহবিচ্ছেদের যন্ত্রণা সামলাতে এবং শান্তির জন্য নিজেকে অন্তরালে রাখতে চান মালিনী। বিবাহবিচ্ছেদের পর মালিনী লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেলেও প্রিয়াংশু অভিনয়জগতের সঙ্গে এখনও যুক্ত। বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও পুরোনো এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, অভিনেতাদের অনিয়মিত জীবন, শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় ব্যক্তিগত সম্পর্ক টেকানো কঠিন হয়ে পড়ে।