ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে আবারো বাড়তির দিকে নিত্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে মুরগির দাম বেড়েছে ।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর নিউমার্কেট কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চিনিগুঁড়া চাল গত সপ্তাহের তুলনায় মানভেদে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খোলা পোলাও চালের (চিনিগুঁড়া) কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা এবং প্যাকেটজাত পোলাও চাল ব্র্যান্ডভেদে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। এ সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০০ টাকা। এই হিসেবে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ২০ টাকা। বাজারে এখন সোনালি জাতের মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩২০ টাকা। এই হিসেবে সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকায়। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০টাকায়।
বিক্রেতারা বলছেন, এবারের ঈদের বাজার সামনে রেখে সেমাই, বাদম ও কিসমিসের দাম বাড়েনি, আগের মতো আছে। এখন বাজারে লাচ্ছা সেমাইয়ের কেজি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং খোলা চিকন সেমাই ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই (৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামের) ব্র্যান্ডভেদে ১৯০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঈদে কিসমিস, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও পেস্তা বাদামের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। প্রতি কেজি কিশমিশ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায়।
কাজুবাদাম মান ও আকারভেদে প্রতি কেজি ১,৪৫০ টাকা থেকে ১,৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৫০০ গ্রাম ওজনের ভাজা প্যাকেটজাত কাজুবাদাম মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ টাকা থেকে ১,২৫০ টাকা। সাধারণ মানের কাঠবাদাম প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১,২৯০ থেকে ১,৫৫০ টাকার মধ্যে। প্রিমিয়াম কোয়ালিটির কাঠবাদাম বিক্রি হচ্ছে ১,৭০০ টাকা কেজি দরে। বাদামের মধ্যে পেস্তা বাদামের দাম সবচেয়ে বেশি। বাজারে এটি প্রতি কেজি ২,৮০০ টাকা থেকে ৩,৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া বেড়েছে মসলার দাম। তবে বাজারে সরবরাহের কোনো সংকট নেই। এখন বাজারে ভালো মানের প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, লবঙ্গ ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা, দারুচিনি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, এলাচ ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ সপ্তাহে বাজারে স্বাভাবিক হয়েছে কাঁচা সবজির দাম। এখন বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থাকে ১০০ টাকা, সিম বিক্রি হচ্ছে ৪০; থেকে ৫০ টাকায়, মুলা ৪০ টাকা, দেশি শশা ১০০টাকা, করলা ১২০ টাকা, গাজর (দেশি) ৪০টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, কাঁচমরিচ ১২০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস ৪০ থেকে ৫০টাকা এবং প্রতিটি পিস জালি কুমড়া ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে সামান্য বেড়েছে মাছের দাম। এখন বাজারে মাঝারি আকারের চাষের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০টাকায়। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ২০০ থেকে ২৫০, দেশি শিং ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি পাঁচমিশালি ছোট মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ সপ্তাহে কমেছে পেঁয়াজের দাম। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা, রসুন (দেশি) ১৫০ (চায়না) ২২০০ টাকা এবং দেশি আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর নিউমার্কেটে কথা হয় গৃহিণী ঝর্না বেগমের সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “পোলাও চাল ও সয়াবিন তেলের দাম বেশি দেখলাম। বাকি সব আগের মতো আছে। বিশেষ করে সেমাইয়ের দাম বাড়েনি। তবে এখন বাজারে ভিড় বেশি। সবাই ঈদের বাজার করতে আসছে।”
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা রাজিব ইসলাম রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “রোজার শুরুতে লেবু ও শশার দাম বেড়েছিল, এখন ঠিক আছে। ক্রেতাদের কাছ থেকে কোন অভিযোগ নেই।”