সারা বাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ে সিম কিনে প্রতারিত সহস্রাধিক পরিবার, বিনা অপরাধে হচ্ছেন আসামি

ঠাকুরগাঁওয়ে রবি সিম কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছে সহস্রাধিক পরিবার। অনেকে নিজেদের অজান্তেই মামলার আসামি হচ্ছেন। এর কোনো সমাধান দিতে পারেনি রবি আজিয়াটা পিএলসি। 

সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা, মোহাম্মদপুর ও চিলারং ইউনিয়নের নিম্নবিত্ত মানুষ, বিশেষ করে নারীদের টার্গেট করে একটি প্রতারক চক্র। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি কার্ড) বিপরীতে বিনামূল্যে একটি রবি বা এয়ারটেল সিম এবং এর সঙ্গে ১০৫ টাকা রিচার্জের অফার দেয় তারা। এমন লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে সাধারণ মানুষদের ফাঁদে ফেলে চক্রটি। 

এ সময় একটি সিম বিক্রির সুযোগে গ্রাহকদের এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে একাধিক সিম রেজিস্ট্রেশন করে নেয় চক্রটি। এই চক্রের মাধ্যমে বিনামূল্যে সিম কেনা প্রায় সবার এনআইডি কার্ডে এখন অজান্তেই ১৫ থেকে ৩০টি অতিরিক্ত রবি ও এয়ারটেল নাম্বার রেজিস্ট্রেশন হয়ে আছে। এসব অতিরিক্ত সিম কার্ড ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে অপরাধ কার্যক্রম। আর মামলার আসামি হচ্ছেন প্রত্যন্ত এলাকার এসব মানুষ। অতিরিক্ত সিম রেজিস্ট্রেশন থাকায় নতুন কোনো সিম কিনতেও পারছেন না ভুক্তভোগীরা।

ঠাকুরগাঁওয়ের আকচা এলাকার সেলিম রেজা বলেছেন, “আমার মা, ভাবি ও বোন এই প্রতারণার ফাঁদে পড়েছে। আমার বাড়ির এক সদস্য একটা সিম কিনলেও তার এনআইডি কার্ডে ২৮টি সিম রেজিস্ট্রেশন করা। এদিকে, আমার অনেক প্রতিবেশী অজান্তেই মামলার আসামি হয়েছে। এখন আমরা অনেক ভয়ে আছি।” 

একই এলাকার নুর নাহার বেগম বলেন, “আমি একটা সিম কিনেছিলাম। এখন আমার এনআইডি দিয়ে ২২টা সিম রেজিস্ট্রেশন করা আছে। অনেকে মামলার আসামি হয়েছে। তাই, ভয় পাচ্ছি। রবি কাস্টমার কেয়ারে অনুরোধ করেছি বাড়তি সব নাম্বারের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করতে। কিন্তু, তারা বাতিল করতে পারছেনা। এখন আমরা কোথায় যাব, ঠিক বুঝতে পারছি না।”

সাদিকুল নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমার স্ত্রী প্রতারণার ফাঁদে পড়েছিল। একটা সিম কিনেছিল। হঠাৎ একদিন বাসায় পুলিশ এসে বলে, আপনার স্ত্রীর নামে মামলা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় আমরা অনেক চিন্তিত হয়ে পড়ি। এর জন্য আমাদের ঢাকায় যেতে হয়। অনেক টাকা-পয়সা খরচ হয়েছে। এখন মামলাটা কী অবস্থায় আছে, তা ঠিক জানি না।”

সোলেমান নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, “আমার স্ত্রী মামলার আসামি হয়েছিল। বেশ কয়েকবার পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে যেতে হয়েছে। অনেক বিপদে পড়েছিলাম।” 

বিভিন্ন মামলা হতে শুরু করলে অনেকেই সমস্যার সমাধানের আশায় রবি কাস্টমার কেয়ারে ছুটে যাচ্ছেন। তবে, কাস্টমার কেয়ার এক্ষেত্রে কোনো সহযোগিতা করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। কাস্টমার কেয়ার থেকে বলা হয়, রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা সম্ভব না। কারণ জানতে চাইলে রবি কর্মকর্তারা ঢাকায় রবি আজিয়াটার প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ কনতে বলেন। তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতেও রাজি নন। 

এ বিষয়ে রবি আজিয়াটা পিএলসির কর্পোরেট কমিনিউকেশন অফিসার আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি জানান, এমন অভিযোগ তারা ইতোপূর্বে দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর এলাকা থেকেও পেয়েছেন। তারা খতিয়ে দেখবেন যে, এ প্রতারণা কার্যক্রমের সঙ্গে রবির সংশ্লিষ্ট কেউ জড়িত আছেন কি না।

রেজিস্ট্রেশন বাতিল না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রেজিস্ট্রেশন বাতিল না হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না। আমি এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেব, কেন বাতিল হচ্ছে না? খোঁজ নিয়ে আপনাকে কল দেব।” তবে, পরে তাকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেছেন, “আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। প্রয়োজনে রবি কম্পানির সঙ্গে কথা বলে এ সমস্যার সমাধান বের করার চেষ্টা করব।”