বাংলাদেশকে ভয় দেখাচ্ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগা। চতুর্থ উইকেটে ১১৫ বলে ১০৯ রানের জুটি গড়ে দুই থিতু হওয়া ব্যাটসম্যান বড় সংগ্রহের দিকে পাকিস্তানকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ম্যাচে ফিরতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ব্রেক থ্রু। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ সেই কাজটাই করলেন। কিন্তু এমনভাবে করলেন, পুরো ম্যাচের উত্তেজনা ছড়িয়ে গেল দারুণভাবে।
৩৯তম ওভারের চতুর্থ বলের ঘটনা। মিরাজের শর্ট বল ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করেছিলেন রিজওয়ান। বল ঠেকিয়ে রান আটকে রাখতে মিরাজ ডান পা এগিয়ে দেন। ততক্ষণে ক্রিজের বাইরে ননস্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমান আগা। দুজনের ধাক্কা লেগে যায় মুহূর্তেই। বল থেমে যায় মিরাজের পায়ে লেগে।
মিরাজকে বল তুলে দিতে চেষ্টা করেন সালমান। কিন্তু বল দ্রুতগতিতে তুলে মিরাজ ভাঙেন স্টাম্প। আবেদন করেন রান আউটের। আম্পায়ার তানভীর তৃতীয় আম্পায়ারের স্বরণাপন্ন হন এবং তৃতীয় আম্পায়ার কুমার ধর্মাসেনা রিপ্লে দেখে ৬২ বলে ৬৪ রান করা সালমান আগাকে আউট দেন।
আউট হয়ে নিজের মেজাজ হারান সালমান। মিরাজকে আঙুল তুলে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। লিটনও এগিয়ে এসে সালমানকে পাল্টা জবাব দেন। সালমান নিজের মেজাজ স্থির রাখতে পারেননি। ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে তার অবয়ব ছিল রাগান্বিত। ড্রেসিংরুমের আগে নিজের গ্লাভস, হেলমেট ছুঁড়ে ফেলেন। ব্যাট আঘাত করেন মাটিতে। তাকে আউট হওয়ায় ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে কোচ মাইক হেসনকে কথা বলতে দেখা যায় চতুর্থ আম্পায়ার মাহমুদুর রহমান মুকুলের সঙ্গে।
রান আউট পুরোপুরি বৈধ হয়েছে। বল তখনও ডেড হয়নি। মিরাজ বল তুলে রান আউট করে চতুরতা দেখিয়েছেন। সালমান ডেড হওয়ার আগেই যদি বল নিজের হাতে তুলে নিতেন তাহলে বাংলাদেশ ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্যা ফিল্ড’ বা ‘হ্যান্ডলড দ্য বল’ আউটও চাইতে পারতো। তাহলেও আউট হতেন সালমান আগা।
কিন্তু মিরাজ তাৎক্ষণিকভাবে বল নিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেখিয়েছেন গেম অ্যাওয়ারনেস। সালমান ক্রিজের বাইরে আছেন তা বুঝে গিয়ে চতুরতা দেখিয়েছেন। যেখানে স্পিরিট অব দ্য গেমের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং মিরাজের উপস্থিত বুদ্ধিরই প্রশংসা করতে হবে।