গাজায় সংগঠিত গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা যে মামলা করেছে, তাতে যুক্ত হয়ে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে নেদারল্যান্ডস ও আইসল্যান্ড।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) মিডল ইস্ট মনিটর লিখেছে, আইসিজে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এই তথ্য জানিয়েছে।
মামলায় দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে পক্ষভুক্ত হওয়ার ঘোষণায় নেদারল্যান্ডস বলেছে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, অনাহার সৃষ্টি, ত্রাণ সহায়তা অস্বীকার করা এবং শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কর্মকাণ্ড- এসবকে গণহত্যার কাজ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
দেশটি আরো বলেছে, এসব পদক্ষেপ গণহত্যা করার উদ্দেশ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দুটি দেশই গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তিবিষয়ক কনভেনশনের সদস্য। এই চুক্তির অধীনে, কোনো মামলায় যদি সেই চুক্তিসম্পর্কিত প্রশ্ন ওঠে, তাহলে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলো আদালতের কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারে।
বিবৃতিতে নেদারল্যান্ডস বলেছে, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কর্মকাণ্ড আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। তাদের মতে, শিশুদের লক্ষ্য করে সংঘটিত অপরাধ গণহত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
অন্যদিকে আইসল্যান্ড তাদের জমা দেওয়া বক্তব্যে বলেছে, গণহত্যার উদ্দেশ্য নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে এমন অবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, যেখানে সংঘটিত কর্মকাণ্ড থেকে একমাত্র সম্ভাব্য সিদ্ধান্তই হলো গণহত্যা।
আইসল্যান্ডের মতে, গণহত্যার উদ্দেশ্যের পাশাপাশি অন্য কোনো সম্ভাব্য উদ্দেশ্য থাকলেও তা আদালতকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া উচিত নয় যে, গণহত্যা ঘটতে পারে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে, যেখানে তারা অভিযোগ তোলে- ইসরায়েল গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।
এর আগে কলম্বিয়া, মেক্সিকো, স্পেন, তুরস্ক, মালদ্বীপ, আয়ারল্যান্ড, ব্রাজিল এবং বেলজিয়ামসহ বেশ কয়েকটি দেশ মামলাটিতে পক্ষভুক্ত হয়েছে। তারা এখন যৌথভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলায় লড়ছে।