সারা বাংলা

হঠাৎ বৃষ্টিতে আলু চাষিদের মাথায় হাত 

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আকস্মিক বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আলুর জমিতে পানি জমে গেছে। আলু তোলার মৌসুমের ঠিক আগে ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। 

শুক্রবার (১৩ মার্চ) আকস্মিক এই বৃষ্টিতে উপজেলার শাখাহার ইউনিয়ন ও রাজাহার ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ আলুর জমিতে পানি জমে যায়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ বছর আলুর ফলন ভালো হওয়ায় বেশ আশাবাদী ছিলেন। অনেকেই জমি থেকে আলু তোলার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের কৃষক আরিফুল ইসলাম লিটন জানান, বাজারে আলুর দাম কম। আলু বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠছে না। তার ওপর ভারি বৃষ্টি। ক্ষেতে পানি জমে থাকলে আলু নষ্ট হয়ে যাবে।  এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।” 

একই ইউনিয়নের আরেক কৃষক জাহিদ মিয়া বলেন, “ঋণ ও ধারদেনা করে আলু চাষ করেছি। ফসল নষ্ট হলে চরম বিপাকে পড়তে হবে। জমি থেকে পানি সড়িয়ে নিতেও সময় লাগবে। ততক্ষণে অনেক আলু পচে যাবে।” 

উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের কৃষক সোহরাব আলী বলেন, “এ বছর ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। আলু তোলার আগেই হটাঠ এই ভারি বৃষ্টিতে সব জমিতে পানি জমেছে। এমনিতেই বাজারে আলুর দাম কম, তার উপর এই বৃষ্টি। খুব ক্ষতি হয়ে গেল।” 

রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রংপুর বিভাগের গাইবান্ধায় ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ১৭ মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়বৃষ্টি, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

উপজেলার কামদিয়া ইউনিয়নের কৃষক শুভ চৌধুরী বলেন, “আমার দেড় একর জমির আলু তুলে ক্ষেতে স্তূপ করে রাখা ছিল। ভোরে গিয়ে চারপাশে মাটির বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করেছি। তবুও কিছু আলু পানিতে ডুবে আছে। এসব আলু তুলে এখন আরো কমদামে বিক্রি করতে হবে।” 

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জমি থেকে দ্রুত পানি সরিয়ে ফসল রক্ষা করা। দ্রুত জমির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা কৃষিবিদ  মেহেদী হাসান বলেন, “আলু তোলার ভরা মৌসুম চলছে। হটাৎ বৃষ্টিতে  গাইবান্ধার কিছু এলাকায় মাঠে রাখা আলু ও আলুক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। জমির পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় কিছু আলুর জমিতে পানি জমে গেছে। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদেরকে আলু তুলে বিক্রি করে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।”