সারা বাংলা

বাহারি ডিজাইনের দেশীয় কাপড়ে জমে উঠেছে বাবুরহাট

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নরসিংদীর শেখেরচর বাবুরহাটে বাহারি ডিজাইনের দেশীয় কাপড়ের বেচাকেনা জমে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের আগমনে বাজার এখন ক্রেতা–বিক্রেতার ভিড়ে সরগরম। এতে দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে ভালো বিক্রির আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

দেশীয় কাপড়ের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার ‘প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার” নামে খ্যাত। এখানে স্থানীয় তাঁতশিল্প ও সহায়ক শিল্পকারখানায় তৈরি শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি-পিস, শার্ট-পিস, প্যান্ট-পিস, পাঞ্জাবির কাপড়, থান কাপড়, পপলিন, ভয়েল, সুতি, শাটিং, বিছানার চাদর, পর্দার কাপড় ও গামছাসহ নানা ধরনের পণ্যের সমাহার পাওয়া যায়। পাশাপাশি টাঙ্গাইলের বিখ্যাত শাড়ি, জামদানি ও কাতানসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড়ও বাজারটিকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।

ঈদ উপলক্ষে দোকানিরা এবার নতুন নতুন ডিজাইনের কাপড়ের বিশাল সংগ্রহ সাজিয়ে বসেছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতাদের আগ্রহ ও চাহিদা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে বাজারে বিক্রিও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

বাবুরহাট ঘিরে নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর এলাকায় গড়ে উঠেছে কয়েক লাখ তাঁতকল ও অসংখ্য সহায়ক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের বড় অংশই এই বাজারের মাধ্যমে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। বণিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় কাপড়ের প্রায় ৭০ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় এই হাট থেকে। বাজারটির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জীবিকা জড়িত।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শামীম মোল্লা জানান, দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে এবার বাজারে বেচাকেনা বেশ ভালো হচ্ছে। রমজানের প্রথম দুই সপ্তাহেই আশানুরূপ বিক্রি হয়েছে, আর ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে ততই বিক্রি বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরেক ব্যবসায়ী সুলতান উদ্দিন সরকার বলেন, “এবার শাড়ি ও থ্রি-পিসের নতুন নতুন ডিজাইন বাজারে এসেছে এবং দামও তুলনামূলকভাবে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। ফলে পাইকাররা স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করছেন।”

কাজল ক্লথ স্টোরের মালিক কাজল সাহা জানান, এ বছর বিদেশি কাপড়ের তুলনায় দেশীয় কাপড়ের চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। ক্রেতারা স্থানীয় তাঁতের তৈরি পণ্যের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।

হাটের এক কর্মচারী রফিক বলেন, “প্রতিদিনই দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। বাহারি ডিজাইনের নতুন কালেকশন ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।”

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, সপ্তাহে তিন দিন—বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার—এই হাটে বেচাকেনা হয়। বর্তমানে প্রতিটি হাটে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। ঈদ মৌসুমে মোট লেনদেন দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন। 

বণিক সমিতির সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, “রমজান এলেই বাবুরহাটে বেচাকেনা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ বছর ক্রেতাদের ভালো সাড়া পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আশাবাদী যে, গত কয়েক বছরের ক্ষতি তারা পুষিয়ে নিতে পারবেন।”

ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজার এলাকায় ৬৪টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ঈদকে সামনে রেখে নরসিংদীর শেখেরচর বাবুরহাট আবারো দেশের অন্যতম প্রাণচঞ্চল পাইকারি কাপড়ের বাজারে পরিণত হয়েছে।