জাতীয়

বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করেই একটি শক্তিশালী, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, নাগরিকরা যদি দুর্বল থাকে তাহলে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানী প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ধর্মগুরুদের জন্য সম্মানী প্রদান কার্যক্রমও উদ্বোধন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করেই একটি শক্তিশালী, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।”

তিনি বলেন, “নাগরিকরা যদি দুর্বল থাকে তাহলে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। তাই সরকার মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।”

তিনি বলেন, “সবাইকে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য।” এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়েছেন। সমাজের কঠিন সময়ে মানুষ যাদের কাছে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করে, সেই ধর্মীয় নেতারাই আজ এখানে উপস্থিত। তাদের ভূমিকা সমাজে নৈতিকতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তারেক রহমান বলেন, “অর্থনৈতিক উন্নয়ন মানুষের জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে পারে, কিন্তু একজন মানুষকে সত্যিকারের মানবিক করে তুলতে ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মতো গুণাবলি প্রয়োজন। এসব মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতার গুরুত্ব অপরিসীম।”

তিনি বলেন, “দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখের বেশি মসজিদ রয়েছে। এছাড়া মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকার চায় এসব প্রতিষ্ঠানকে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে।”

তিনি আরো বলেন, “নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার গঠনের পর সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের নারী প্রধান এই কার্ডের সুবিধা পাবেন।”

প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা কৃষক কার্ডের পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে। এছাড়া, ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে খাল খনন কর্মসূচিও শুরু হচ্ছে, যা কৃষি ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে দেশে প্রথমবারের মতো ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি চালু হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়ার সরকার মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কর্মসূচি চালু করে। বর্তমান সরকারও ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী প্রদানসহ তাদেরকে আরো দক্ষ ও সক্ষম করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। এই ঐতিহ্য বজায় রেখে সবাইকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার এবং ৩৯৬টি গির্জার ধর্মীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই সম্মানী পাবেন। এতে মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন ধর্মীয় কর্মী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার এবং খাদেম ২ হাজার টাকা। প্রতিটি মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জার জন্য মাসিক ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট পুরোহিত, সেবায়েত, অধ্যক্ষ বা যাজকরা নির্ধারিত হারে সম্মানী পাবেন।