সারা বাংলা

তেল সঙ্কটে কাপ্তাই হ্রদে ঈদে যাত্রী পরিবহন বন্ধের শঙ্কা

জ্বালানি তেলের সঙ্কটের কারণে আসন্ন ঈদে কাপ্তাই হ্রদে যাত্রী পরিবহন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তেল সঙ্কট অব্যাহত থাকলে যাত্রী পরিবহন বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা। ঈদে যাত্রী পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার রাঙামাটি জোনের নেতারা। কাপ্তাই হ্রদে বিভিন্ন মালিকের অর্ধশতাধিক লঞ্চ রয়েছে।

সংগঠনের চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার ছয়টি উপজেলার মানুষের জন্য নৌপথই যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু, সম্প্রতি বিভিন্ন তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় জেলার যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো মারাত্মক জ্বালানি সঙ্কটে পড়েছে। এতে অচিরেই নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ নৌপথে বাড়িতে যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু, জ্বালানি সঙ্কটের কারণে যদি লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। বিশেষ করে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষ বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন। 

লঞ্চ মালিকদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে আগামী দিনগুলোতে এই সঙ্কট আরো তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সংগঠনের চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন বলেছেন, “দ্রুত তেলের সঙ্কট না কাটলে ঈদে যাত্রী পরিবহনে আমাদের হিমশিম খেতে হবে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি লঞ্চ মালিকদেরও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। বেকার হয়ে পড়বেন শ্রমিকরা। শুধু যাত্রী পরিবহন নয়; উপজেলাগুলোতে নিত্যপণ্যের সরবরাহও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেছেন, “সমস্যা সমাধানে প্রশাসন কাজ করছে।”