রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর এ নৌরুটে যানবাহন চলাচলের হার কমলেও ঈদ মৌসুমে তা বেড়ে যায়। ঈদের আগে যমুনা সেতুর যানজট এড়াতে অনেক যাত্রী আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ভিড় জমান।
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট মুখী যানবাহন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ব্যবহারের ফলে মহাসড়কে বাড়তি চাপ পড়ে। তবে, গত অর্ধযুগ ধরে এ মহাসড়কের বাড়তি চাপ এড়াতে যাত্রীরা মানিকগঞ্জ-সিংগাইর-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক সড়ক ব্যবহার করছেন। ফলে স্থানীয় প্রশাসনকে ঈদ যাত্রায় মানিকগঞ্জের দুইটি নৌরুট এবং দুইটি মহাসড়কে নিতে হয় বাড়তি প্রস্তুতি।
প্রশাসনের ভাষ্য, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুট এবং ঢাকা-আরিচা ও মানিকগঞ্জ-সিংগাইর-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘাট এলাকায় পন্টুনে উঠানামা করার রাস্তার কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় ভোগান্তির আশংকা করছেন যানবাহন চালক ও যাত্রীরা।
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটের ব্যবস্থাপক পান্না লাল নন্দী বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ২২টি ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুট ১১টি লঞ্চ চলাচল করবে। এই দুই নৌরুটের লঞ্চে কাটা গাড়ির (গাড়ি পরির্বতন) যাত্রীরা চলাচল করে।”
আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটের ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ বলেন, “ এই নৌরুটে যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে পাঁচটি ফেরি চলাচল করবে। ঈদের আগে ও পরে ছয়দিন ট্রাক পারাপার বন্ধ থাকবে। তবে, জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার করা হবে।”
পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়ার মধ্যে যাতায়াতকারী দুটি ফেরি
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম বলেন, “ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষদের পারাপারের জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি। বর্তমানে ১৭টি ফেরি সচল রয়েছে। গত বর্ষায় ফেরিঘাটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেই ক্ষতি মেরামতে বিআইডব্লিউটিএ কাজ করছে। কিছু কাজ এখনো বাকি আছে, তা দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হবে।”
বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে চারটি ফেরিঘাট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশা করছি, কোনো সমস্যা হবে না। মেরামত কাজ শেষ পর্যায়ে।”
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) মনীষা রানী কর্মকার বলেন, “পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। লঞ্চ ঘাট ও ফেরি ঘাটে যাত্রী পারাপারে ভোগান্তি এড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাড়তি ভাড়া ও যাত্রী বহন না করতে নিষেধ করা হয়েছে।”
মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার আলম বলেন, “ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে এবারের ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে অতিরিক্ত কোনো সংস্কার কাজের প্রয়োজন হয়নি। মহাসড়কটি বর্তমানে যানবাহন চলাচলের উপযোগী থাকায় কোথাও মেরামতের দরকার পড়েনি। একইভাবে, মানিকগঞ্জ–সিংগাইর–হেমায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কও ভালো অবস্থায় রয়েছে। যাত্রীদের যাতায়াত স্বস্তিদায়ক হবে।”
মানিকগঞ্জ-সিংগাইর-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কে ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ বাড়বে
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, “ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘাট এলাকায় ও মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বারবাড়িয়া থেকে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট এবং সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ব্রিজ থেকে পাটুরিয়াগামী সড়কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঈদযাত্রায় মানুষের নিরাপত্তায় পুলিশের ৭০০ সদস্য কাজ করবে।”