সারা বাংলা

যে মসজিদে ইতেকাফে বসেছেন ১৬৬৪ মুসল্লি

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। মহিমান্বিত এই মাসের গুরুত্ব সারা বিশ্বের মুসল্লিদের কাছে অপরিসীম। এই রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত হলে ইতেকাফ।

বাংলাদেশের প্রতিটি মসজিদেই ইতেকাফে বসেছেন মুসল্লিরা। যশোরের একটি মসজিদে ৮০ বিদেশি মেহমানসহ ১৬৬৪ জন একসঙ্গে বসেছেন ইতেকাফে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় যশোর সদর উপজেলার সতীঘাটা ঐতিহ্যবাহী আশরাফুল মাদারিস মসজিদে ইতেকাফে বসেছেন তারা। 

মাদ্রাসাটির শিক্ষক মাওলানা হাসান ইমাম জানান, এ বছর ২০ রোজার রাত থেকে ১ হাজার ৬৬৪ জন মুসুল্লি ইতেকাফে অংশ নিয়েছেন। যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, পানামা, লন্ডন, ও সিঙ্গাপুরের মেহমান ৮০ জন। যারা রমজানের শুরু থেকেই মাদ্রাসায় অবস্থান করছেন। মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মুসুল্লি রয়েছেন ১ হাজার ৫৬৪ জন।

তিনি আরো জানান, বিশাল সংখ্যক মুসল্লির আবাসন নিশ্চিত করতে মাদ্রাসার চারতলা মসজিদটি ব্যবহৃত হচ্ছে। মুসুল্লির সংখ্যা ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ায় মসজিদের ছাদে ত্রিপল টাঙিয়ে থাকার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন রয়েছেন মুসুল্লিরা। 

মাদ্রাসার মহা-পরিচালক মাওলানা নাসিরুল্লাহ জানান, যশোরের বিত্তবানদের সহযোগিতায় এ মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়। তাদের ও ইতেকাফে বসা মুসুল্লিদের অর্থায়নেই  সেহেরি ও ইফতারসহ খাবারের যাবতীয় আয়োজন করছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। 

তিনি আরো বলেন,আমরা বিভিন্ন দেশের ৬০০ মুসুল্লিকে ইতিকাফের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। ইরান যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বিপর্যয় ও ভিসা জটিলতার কারণে অধিকাংশ আমন্ত্রণকারী আসতে পারেননি। যেসব বিদেশি মেহমানরা ইতেকাফে বসেছেন, তারা রমজানের শুরু থেকে মাদ্রাসায় আছেন। ইতিকাফ শেষে ঈদের নামাজের পর তারা বিদায় নেবেন। ঐতিহ্য অনুযায়ী, ইতিকাফকারী ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট সকলে স্থানীয় সতীঘাটা ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন। 

দেশি ও বিদেশি মুসুল্লিদের এই বিশাল সমাগমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। তরিকুল ইসলাম নামে এক বাসিন্দা বলেন, “প্রতিবছরই এখানে বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি মুসল্লি ইতেকাফে বসেন। এটা আমাদের এলাকার জন্য রহমত স্বরূপ।” 

এ মাদ্রাসায় বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ছাত্র দ্বিনী শিক্ষা গ্রহণ করছে। যার মধ্যে ৫০ জন এতিম শিশু রয়েছে।