ইরানের বিরুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই এর আঁচ সরাসরি ইরাকে এসে পড়েছে।
রবিবার (১৫ মার্চ) কাতারের সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ইরাক সংবাদদাতা আসাদ বেগের এক প্রতিবেদন বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ছায়াযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত ইরাক এখন এই বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ইরানের শীর্ষ নেতা নিহতের ঘটনায় তেহরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকজুড়ে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, এতে দূতাবাসের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এই হামলার বাইরেও ইরাকজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন দূতাবাস ইতিমধ্যে একটি সতর্কতা জারি করে মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ইরাক ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সেদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সম্পর্কে তথ্যের বিনিময়ে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করছে।
আসাদ বেগের মতে, এই হামলার তীব্রতা ও হার স্পষ্টতই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা কেবল বাগদাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সমগ্র ইরাকসহ উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলেও বিভিন্ন ঘাঁটি ও বিমানবন্দরে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা হামলার শিকার হচ্ছে। এর জবাবে মার্কিন বাহিনীর পাল্টা বিমান হামলায় ইরাক এখন একটি বহুমুখী সংকটের মুখে পড়েছে, যেখানে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন।