ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের এরবিল শহরে অবস্থিত লানাজ তেল শোধনাগারে শনিবার (১৪ মার্চ) ড্রোন হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হামলার পর শোধনাগারের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পুরোপুরি নিরূপণ না করা পর্যন্ত শোধনাগারের সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই ধরনের হামলা স্থানীয় সরকারের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রবিবার (১৫ মার্চ) কাতারের সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ইরাক সংবাদদাতা আসাদ বেগ এক প্রতিবেদন এসব তথ্য জানান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লানাজ তেল শোধনাগার এই অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, কারণ তেল উৎপাদন ও বিতরণে এটি প্রধান ভূমিকা পালন করে।
এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। এদিকে ইরানি গণমাধ্যমগুলো একজন নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই হামলার পেছনে ইরানের কোনো হাত নেই।
ইরানের কেন্দ্রীয় ইউনিফাইড কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ একটি বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোনের অনুকরণে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে তুরস্ক, কুয়েত এবং ইরাকের মতো আঞ্চলিক দেশগুলোতে হামলা চালানো হচ্ছে।
কমান্ডটি জোড়ালোভাবে বলেছে, তারা এই অঞ্চলে শুধু মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করে।
ইরান এই শোধনাগারে হামলার বিষয়টি স্পষ্টতই অস্বীকার করছে। ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও একই অবস্থান নিয়েছে।
আসাদ বেগের মতে, “তা সত্ত্বেও হামলায় শোধনাগারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এটি স্থানীয় সরকারের জন্য বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। কারণ তেল উৎপাদন ও রপ্তানিই এই অঞ্চলের অর্থনীতির মূল ভিত্তি।”