জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আবেগ নয়, সংবিধান ও আইনের পথ অনুসরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্র কোনো আবেগ দিয়ে চলে না; রাষ্ট্র চলে সংবিধান, আইন ও বিধিবিধানের ভিত্তিতে।”
রবিবার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে জুলাই সনদ কার্যকরের বিষয়ে বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সরকার ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তা কোনো অবৈধ বা চাপিয়ে দেওয়া আদেশের মাধ্যমে নয়, বরং সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করতে হবে।”
সংসদীয় রীতিনীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে আলোচনা আনতে হলে কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ বা ৬৮ ধারা অনুযায়ী নোটিশ দিতে হয়।” বিরোধীদলীয় নেতা এ ধরনের কোনো নোটিশ দিয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
‘জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। তবে সংবিধান সংশোধনের মতো বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে করা যায় না। অথচ গত বছরের ১৩ নভেম্বর জারি করা আদেশটি না কোনো অধ্যাদেশ, না কোনো আইন।”
তিনি বলেন, “ওই আদেশের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়া এবং রাষ্ট্রপতির কাছে অধিবেশন আহ্বানের দাবি সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।”
গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “গণভোটে জনগণের রায়কে সরকার সম্মান করে। তবে ওই আদেশে এমন কিছু প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছে, যা জুলাই সনদের রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ ছিল না। চারটি আলাদা প্রশ্নের জন্য একটিমাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল, যা যৌক্তিক হয়নি।”
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য আগে সংবিধানে সংশোধন আনতে হবে বলেও জানান তিনি। এরপর সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথসহ অন্যান্য বিষয় সামনে আসবে।
চলতি সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল আনার বিষয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রথম দিনেই সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সেগুলোর নিষ্পত্তি করতে হবে। সামনে দীর্ঘ ছুটিও রয়েছে। তাই এই অধিবেশনে সময় পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত হলে আগামী বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন করা যেতে পারে।”
শেষে বিরোধীদলীয় নেতাকে কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানান তিনি।