জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাতটি বিভাগের জন্য নয়টি বাসের ব্যবস্থা করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, নিজের সুবিধার জন্য জবি ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব শাহীন মিয়া খুলনাগামী একটি বাসের নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে তার বাড়ির সামনে দিয়ে নেওয়ার জন্য চালককে চাপ দেন। এতে বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
শনিবার (১৪ মার্চ) খুলনাগামী জবির ‘কালিগঙ্গা’ বাসে এ ঘটনা ঘটে।
বাসটি নির্ধারিতভাবে মধুখালি–কামারখালি সড়ক দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই রুট এড়িয়ে শাহীন মিয়া মাছকান্দী এলাকা থেকে বাসটিকে ভেতরের রাস্তা দিয়ে ঘুরিয়ে নেওয়ার জন্য চালকের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে বাসটিকে অতিরিক্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার ভাঙাচোরা রাস্তা পাড়ি দিতে হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, কামারখালি হয়ে মেইন রোডে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন যাত্রীর নামার কথা ছিল এবং সেটিই ছিল নির্ধারিত রুট। কিন্তু রুট পরিবর্তনের কারণে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হন। এ সময় কয়েকজন যাত্রী প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে বাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রাহুল শেখ বলেন, “আজ খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া কালিগঙ্গা বাসের রুট ছিল ফরিদপুরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় থেকে মাগুরা ভায়েনা মোড় হয়ে খুলনা। এই পথের সবচেয়ে সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত রাস্তা মধুখালি দিয়ে কামারখালি হয়ে মাগুরা। এছাড়া, মধুখালি ও কামারখালির ১০–১২ জন শিক্ষার্থী বাসটিতে ছিলেন। জকসুর এজিএস প্রার্থী শাহীন মিয়া নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত স্থানে নামতে না দিয়ে নিজের ইচ্ছামতো রুটে বাস নিতে বাধ্য করেন।”
তিনি আরো বলেন, “আমি এবং আরো কয়েকজন বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তিনি কোনো যৌক্তিক সমাধান দেননি। বরং আমাদের মাঝপথে নামিয়ে দেওয়া হয়। এতে আমাদের যাত্রায় চরম ভোগান্তি হয়েছে।”
আশরাফুজ্জামান জনি নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বেশি সময় লেগেছে। কিছু বলার নেই।”
রাকিব রায়হান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, “বার বার বলার পরও বাস মধুখালি–কামারখালি দিয়ে না নিয়ে মাছকান্দী থেকে ভেতরের রাস্তা দিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে আমরা দুজন মাছকান্দীতে নেমে যাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জবি ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব শাহীন মিয়া। তিনি বলেন, “রুট পরিবর্তন নিয়ে আমি কোনো কথা বলিনি। বাসের চালক মাগুরার হওয়ায় রুট ভালো চেনেন। আমার বাড়ি মাগুরায় হলেও আমি ২০১৮ সাল থেকে এখানে থাকি। চালক মামা বলেছেন, এদিক দিয়ে গেলে ১২–১৫ কিলোমিটার রাস্তা কম হবে, তাই বাইপাস দিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “বাইপাস দিয়ে যাওয়ার আগে বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া হয়েছিল। দুই–তিনজন ছাড়া প্রায় সবাই সম্মতি দিয়েছিল, তাই ওই রুটে যাওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।