খেলাধুলা

সৌম‌্যকে না খেলানো ও সাইফ-আফিফকে নিয়ে যে ব‌্যাখ‌্যা দিলেন মিরাজ

নিজের সবশেষ আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ৯১ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেছিলেন সৌম‌্য সরকার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম‌্যাচে তার নব্বই রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ জিতেছিল ক‌্যারিবীয়ানদের বিপক্ষে। পরের সিরিজে সৌম‌্য দলে থাকবেন, একাদশে সুযোগ পাবেন এতোটুকু নিশ্চিত করেই বলা যায়। কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি।

সৌম‌্যকে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ওয়ানডেতে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। টপ অর্ডারে তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে ছিলেন সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তানজিদ বাদে বাকি দুজন সিরিজে নিজেদের তেমন মেলে ধরতে পারেননি। সৌম‌্যকে কেন খেলানো হয়নি শুরু থেকে সেই ব‌্যাখ‌্যা পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছিল, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগে বিসিএলে হাসেনি সৌম‌্যর ব‌্যাট। শুধু তাই- নয়, জাতীয় দল বিসিবি অলস্টারর্স একাদশের ম‌্যাচেও নিষ্প্রভ ছিল তার ব‌্যাট।

বিসিএলে তার রান ছিল যথাক্রমে ০, ৯ ও ৯। এছাড়া নিজেদের মধ‌্যকার ম‌্যাচে সৌম‌্য ২২ বলে ১১ রানের বেশি করতে পারেননি। পারফরম‌্যান্স তার পক্ষে কথা বলছে না। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম‌্যান্স দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সমীকরণ মেলানো কতোটুকু যুক্তিসঙ্গত সেই প্রশ্নই উঠছে। কেন সৌম‌্য তিন ওয়ানডের একটিতেও সুযোগ পেলেন না?

২-১ ব‌্যবধানে সিরিজ জয়ের পর মিরাজ সংবাদ সম্মেলনে এসে সেই ব‌্যাখ‌্যা দিয়েছেন, ‘‘সৌম্যকে আমরা যথেষ্ট সুযোগ দিতে চাই। একজন ব্যাটসম্যানকে এক বা দুই ম্যাচ দেখে বিচার করা যায় না। সময় দিলে সে নিজের সেরা খেলাটা দেখাতে পারে। তাই সুযোগ এলে আমরা তাকে আবারও খেলাবো।’’

তানজিদ সিরিজে ১৭৫ রান করেছেন। তার সঙ্গী সাইফ ছিলেন আড়ালে। ভালোমানের পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে নড়বড়ে ছিল তার ব‌্যাটিং অ‌্যাপ্রোচ। তিন ম‌্যাচে রান ৪, ১২ ও ৩৬। শেষ ম‌্যাচে ৩৬ রান করেছেন ৫৫ বলে। যেখানে রান পেতে ভুগছিলেন তিনি। বাউন্ডারি বের করা, স্ট্রাইট রোটেট করাতেও মুন্সিয়ানা দেখাতে পারেননি। সাইফ এই সিরিজের আগে সবশেষ ওয়ানডেতে ৭২ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সমান ৬টি করে চার ও ছক্কা ছিল তার ব‌্যাটে। সাইফকেও না খেলানোর কারণ ছিল না টিম ম‌্যানেজমেন্টের।

মিরাজ তাকে নিয়ে বলেছেন, ‘‘আমরা চাই প্রতিটি খেলোয়াড় যেন যথেষ্ট সুযোগ পায়। যেমন, সৌম্য সরকার আগের সিরিজে ভালো খেলেছিল, যদিও কিছুদিন ছন্দে ছিল না। তামিম ও সাইফ হাসান ভালো টাচে ছিল। তাই হঠাৎ করে পরিবর্তন করলে দুইজন খেলোয়াড়ের জন্যই বিষয়টা কঠিন হয়ে যেত। আমাদের পরিকল্পনা ছিল খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক সুযোগ দেওয়া, যাতে তারা নিজেদের প্রমাণ করার সময় পায়।’’

এই সিরিজে দলে ফেরানো হয়েছিল আফিফ হোসেনকে। প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু তাকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘ফাইন টাচে আছে।’’

প্রথম ম‌্যাচে ব‌্যাটিংয়ের সুযোগ হয়নি তার। দ্বিতীয় ম‌্যাচে ১৪ রানে থেমে যায় তার ইনিংস। দলের প্রায় নিশ্চিত পরাজয়ের ম‌্যাচে চাইলে বড় ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ‌্য মেলে ধরতে পারতেন। কিন্তু ব‌্যর্থ হয়েছেন। গতকাল শেষ ম‌্যাচে সাত নম্বরে নেমেছিলেন। ১৭ মিনিট ক্রিজে ছিলেন। ৮ বল খেলার সুযোগ পেলেও ৫ রানের বেশি করতে পারেননি। দলে তার ভূমিকা লেট মিডল অর্ডারে। ওই সময়ে দ্রুত রান তোলা, বাউন্ডারি মারার কাজটা করার কথা। কিন্তু আফিফ শেষ ম‌্যাচে একাধিক বলেই বিভ্রান্ত হয়েছেন।

তাকে নিয়ে মিরাজ বলেছেন, ‘‘আমার কাছে আফিফের অ্যাপ্রোচটা ভালো লেগেছে। আগের ম্যাচেও দেখেছেন, তখন প্রায় ৯ রান করে প্রয়োজন ছিল। চাইলে সে নিজের জন্য নিরাপদ ক্রিকেট খেলতে পারত, কিন্তু সে দলের জন্য ঝুঁকি নিয়েছে। ম্যাচ জিততে গেলে কখনো কখনো ঝুঁকি নিতেই হয়। যদিও সে বড় রান করতে পারেনি, তবুও ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে সে ভালো করবে বলে আমার বিশ্বাস।’’