ক্যাম্পাস

গেস্টরুম–গণরুম নির্যাতনের স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতার উদ্যোগ ডাকসুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে চলা গেস্টরুম ও গণরুম নির্যাতনের ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ‘গেস্টরুম-গণরুম ও ফ্যাসিবাদী নির্যাতন’ শীর্ষক একটি স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে গত ১৬ বছরে ঘটে যাওয়া নিপীড়নের ঘটনাগুলো নথিবদ্ধ করতেই এই আয়োজন করছে ডাকসু।

রবিবার (১৫ মার্চ) ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নবাগত শিক্ষার্থীদের মিছিলে নেওয়ার জন্য ‘আধুনিক দাসের’ মতো ব্যবহার করা হতো। পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ কেড়ে নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে মাদক ও সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে বাধ্য করা হতো। সেই অন্ধকার সময় যেন আর ফিরে না আসে, এজন্য অতীতের ঘটনাগুলো সংরক্ষণ ও ইতিহাসের সঠিক চর্চা প্রয়োজন বলে মনে করে ডাকসু।

প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক সব শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারবেন। অংশগ্রহণকারীদের নিজের অভিজ্ঞতা, নিজের চোখে দেখা ঘটনা বা নির্ভরযোগ্য প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনার ভিত্তিতে স্মৃতিচারণধর্মী লেখা জমা দিতে হবে। লেখার শব্দসংখ্যার কোনো সীমা নেই। তবে ঘটনার তারিখ, স্থান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামসহ যথাসম্ভব নির্ভুল তথ্য উল্লেখ করতে হবে। সেই সময়ের কোনো ছবি, ভিডিও বা ফেসবুক পোস্টের লিংক থাকলে সেটিও যুক্ত করার অনুরোধ করা হয়েছে।

ডাকসু জানিয়েছে, জমা পড়া লেখাগুলোর মধ্য থেকে সেরা ৫০টি নির্বাচন করে পুরস্কৃত করা হবে। প্রথম পুরস্কার ৩০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার যথাক্রমে ২০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা। এছাড়া, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অধিকারীরা পাবেন ৫ হাজার ও ৩ হাজার টাকা। ষষ্ঠ থেকে ৫০তম স্থান পর্যন্ত প্রত্যেকে পাবেন এক হাজার টাকা করে। নগদ অর্থের পাশাপাশি বিজয়ীদের দেওয়া হবে ক্রেস্ট ও সনদ।

বাছাইকৃত লেখাগুলো নিয়ে পরে একটি বিশেষ সংকলন প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২৬ এর মধ্যে নির্ধারিত গুগল ফরমের মাধ্যমে লেখা জমা দিতে হবে। লেখাটি বাংলায় ওয়ার্ড ডকুমেন্ট ফাইলে হতে হবে; হাতে লেখা বা পিডিএফ ফাইল গ্রহণযোগ্য হবে না। ১০ মেগাবাইটের বেশি আকারের প্রামাণ্য ফাইল থাকলে তা গুগল ড্রাইভে আপলোড করে লিংক যুক্ত করা যাবে।

ডাকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো নির্যাতনের ঘটনাগুলো নথিবদ্ধ করার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীদের তাদের কলমে সেই সত্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।