যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কায় দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে প্রতি বুধবারকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি ঘোষণা করেছে।
সোমবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে বলেন, “আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, কিন্তু সবচেয়ে ভালোর আশা করতে হবে।”
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে এশীয় দেশগুলোর গৃহীত ধারাবাহিক ব্যয় সংকোচনমূলক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ। এই প্রণালী দিয়ে একসময় পারস্য উপসাগর থেকে লাখ লাখ ব্যারেল তেল এই অঞ্চলে আসত।
গত বছর এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশই এশিয়ার উদ্দেশ্যে যেত, যা বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক অঞ্চল।
শ্রীলঙ্কার নতুন চার-দিনের কর্মসপ্তাহ স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও প্রযোজ্য হবে। কিন্তু স্বাস্থ্য ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মতো অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা প্রদানকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এর প্রভাব পড়বে না বলে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ছুটির দিন হিসেবে শুক্রবারের পরিবর্তে বুধবারকে বেছে নিয়েছে, যাতে সরকারি অফিসগুলো টানা তিন দিন বন্ধ না থাকে।
গাড়িচালকদের এখন একটি ন্যাশনাল ফুয়েল পাসের জন্য নিবন্ধন করতে হবে, যা একজন ব্যক্তি কী পরিমাণ জ্বালানি কিনতে পারবেন তা সীমিত করে দেবে। এটি কিছু শ্রীলঙ্কাবাসীর মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। তারা মনে করছেন, জ্বালানির এই কোটা—ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১৫ লিটার এবং মোটরসাইকেলের জন্য পাঁচ লিটার—খুবই কম।
এই রেশনিং ব্যবস্থাটি প্রথম ২০২২ সালে দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সময় চালু করা হয়েছিল, যখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফুরিয়ে যাওয়ায় দেশটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানি এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি কিনতে অক্ষম ছিল।
গত মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বোমাবর্ষণ শুরু করার পর থেকে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং বর্তমানে তা ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে ঘোরাফেরা করছে।