সারা বাংলা

ঋণের টাকা আদায়ে আতিকুলকে অপহরণ-হত্যা: পুলিশ

গাজীপুরের শ্রীপুরে সুদের টাকা পরিশোধের জন্য চাপকে কেন্দ্র করে এক তরুণ মাছ বিক্রেতাকে অপহরণ, নির্মম নির্যাতন এবং পরে হত্যা করার ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যার পর অপরাধীরা লাশ গুমের উদ্দেশ্যে জঙ্গলে নিয়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দেয়, যাতে পরিচয় শনাক্ত করা না যায়।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মিরাজুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহত আতিকুল ইসলাম (১৮) ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ এলাকায় ভাড়া থেকে ফেরি করে মাছ বিক্রি করতেন।

পুলিশ জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে আগুনে পোড়া অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের গলায় পোড়া কাপড় প্যাঁচানো এবং শরীরে বিশেষ দাগ থাকায় ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য লাশ হাসপাতালে পাঠানো হলেও পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় সেটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় শ্রীপুর মডেল থানায় হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে পুলিশ একটি বিশেষ দল গঠন করে। প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, স্থানীয় একটি সমিতি থেকে আতিকুল নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণের বিপরীতে সুদের টাকা পরিশোধ করলেও মূল টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে আতিকুল আত্মগোপনে চলে যায়।

পরবর্তীতে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযুক্তরা তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। শ্রীপুরের মুলাইদ এলাকায় একটি বাড়িতে আটকে রেখে কয়েকদিন ধরে নির্যাতন করা হয়। পরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে টেংরা এলাকার জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আলামত নষ্ট করতে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।

নিহতের মা ফজিলা বেগম অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং টাকা দিলে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। পরে একটি পোড়া লাশের ছবি দেখে সন্দেহ হলে তিনি পুলিশকে জানান, যার সূত্র ধরে মূল রহস্য উদ্ঘাটিত হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।