জাতীয়

সদরঘাটে ভিড় থাকলেও নেই বিড়ম্বনা 

ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দি‌নে সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়লেও কোনো ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি যাচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রীদের জন্য ফ্রি কুলি  সেবা, ট্রলি ও হুইলচেয়ার ও লঞ্চ মালিকদের নির্ধারিত ভাড়ার ওপর ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়ায় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরেছেন সাধারণ মানুষ।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় গতকালের তুলনায় ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। তবে মানুষের ভিড় বাড়লেও কোনো সমস্যা ছাড়া নির্বিঘ্নে যে যার গন্তব্যে যাচ্ছেন। যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়েই লঞ্চে উঠতে পারছেন এবং লঞ্চগুলো পর্যাপ্ত যাত্রী নিয়ে নির্ধারিত সময়ে ঘাট ত্যাগ করছে। 

ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে তৎপর রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

সদরঘাট থেকে ভালোগামী গ্রীন লাইন লঞ্চের যাত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুল হাসান রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “এখন সদরঘাটে পা রাখার জায়গা নেই ঠিকই, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো এবার কোনো হুড়োহুড়ি নেই। প্রতিবছর লঞ্চে ওঠার জন্য যে যুদ্ধ করতে হতো, এবার পন্টুনে শৃঙ্খলা থাকায় সেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। ভিড় দেখে প্রথমে ঘাবড়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু পরিবারের সবাইকে নিয়ে খুব সহজেই লঞ্চে উঠতে পেরেছি। এই ভিড়ের মাঝেও এমন ব্যবস্থাপনা সত্যিই প্রশংসনীয়।” 

চাঁদপুরগামী কর্ণফুলী লঞ্চে যাত্রী প্রবীণ নাগরিক সুলতানা পারভীন রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আমার বয়স হয়েছে, ভারি ব্যাগ নিয়ে ভিড়ের মধ্যে লঞ্চে ওঠা খুব কষ্টের ছিল। কিন্তু এবার ঘাটে ঢোকার পর দেখলাম স্বেচ্ছাসেবীরা ট্রলি আর হুইলচেয়ার নিয়ে এগিয়ে আসছে। কোনো টাকা ছাড়াই তারা আমাকে পন্টুন পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। সদরঘাটে ভিড় তো থাকবেই, কারণ সবাই তো একসাথে বাড়ি যেতে চায়; কিন্তু এবার মানুষের মাঝে এক ধরনের শান্তি রয়েছে। কোনো বিড়ম্বনা ছাড়াই লঞ্চে সিট পেয়েছি।”

বরিশালগামী সুরভী লঞ্চের যাত্রী কাওসার আহমেদ বলেন, “সদরঘাট আসতে অনেক যানযট পেয়েছি। কিন্তু ঘাঁটে এসে তেমন ঝামেলা পাইনি। আর এবার কোনো বাড়তি ভাড়া নিয়ে কথা হয়নি।”

সদরঘাটের ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষর (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন জানান, এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক আছে। ঘরমুখী মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছে।