পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করতে রাজধানী ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। ফলে বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল থেকেই ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে, নেই কোনো ভোগান্তি ও দুর্ভোগ। পদ্মা সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ নির্বিঘ্নে গন্তব্যে যাচ্ছেন।
এদিকে, গত ৪৮ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে প্রায় ৬০ হাজার গাড়ি পারাপার হয়েছে, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
বরাবরের মতো এবারের ঈদ যাত্রায় এক্সপ্রেসওয়েতে ব্যক্তিগত ছোট যান ও মোটরসাইকেলের আধিক্য দেখা গেছে। স্বস্তিতে যাত্রা করতে পেরে আনন্দিত যাত্রীরা।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের হাসাড়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ টি এম মাহামুদুল হক জানান, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে দুটি মোবাইল টিম ও চারটি পেট্রোল টিমসহ মোট ছয়টি দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশের নিয়মিত টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ জোর দেওয়ায় এক্সপ্রেসওয়ের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন শেখ জানান, এবারের ঈদযাত্রায় পদ্মা সেতুতে টোল প্লাজার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ৩ সেকেন্ডে ১০টি গাড়ি টোল প্রদান করে সেতু পার হচ্ছে। মোটরসাইকেলের জন্য ৩টি আলাদা লেনসহ মোট ১০টি লেনে টোল আদায় করা হচ্ছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে প্রায় ৬০ হাজার গাড়ি পারাপার হয়েছে, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা।
তিনি জানান, যানজট নিরসনে এবার পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে একটি বিশেষ ‘বাস বে’ নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে একসাথে ১০-১৫টি বাস দাঁড়াতে পারছে, যার ফলে টোল প্লাজার প্রবেশমুখে যানবাহনের বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে না।
সকাল থেকেই এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানের চাপ ছিল। তবে কোথাও গাড়ি থেমে থাকতে দেখা যায়নি। যাত্রীরা জানান, সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কারণে এবার পদ্মা সেতু পার হতে তাদের কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। বিশেষ করে টোল প্লাজায় দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা।
মুন্সীগঞ্জর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মেনহাজুল আলম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জেলা পুলিশের প্রায় ৫ শতাধিক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং যাত্রী হয়রানি রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।