সারা বাংলা

চট্টগ্রাম বন্দরের পথে ৪ জ্বালানিবাহী জাহাজ

দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানিবাহী জাহাজ আসছে। আগামী ২৩ মার্চের মধ্যে আরো চারটি জাহাজ জ্বালানী নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এসব জাহাজ আসছে অ্যাঙ্গোলা, ওমান, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আগত চারটি জাহাজের মধ্যে দুটি জাহাজে রয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস, এলপিজি। একটি জাহাজে আছে এলএনজি এবং অপরটিতে বেইজ অয়েল, যা শিল্প ও লুব্রিকেন্ট উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়াত হামিম জানিয়েছেন, জ্বালানি খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‍“নতুন জাহাজগুলোর আগমনের ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঈদের ছুটির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে জ্বালানী খালাস অব্যাহত থাকবে।”

এর আগে, চলতি মার্চ মাসেই চট্টগ্রাম বন্দরে একাধিক জ্বালানিবাহী জাহাজ ভিড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ২৮টি জাহাজ বন্দরে এসেছে। যেগুলো এলএনজি, এলপিজি, ডিজেল, ফার্নেস অয়েল ও বেইজ অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্য নিয়ে এসেছে।

শুধু মার্চের প্রথম ১২ দিনেই ১৬টি জ্বালানি জাহাজ বন্দরে পৌঁছায়, যার মধ্যে এলএনজি কার্গোই ছিল উল্লেখযোগ্য অংশ।

এদিকে. মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও বাংলাদেশে জাহাজ আগমন অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে এলএনজি ও তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সরবরাহ চেইন সচল রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফলে জ্বালানি জাহাজগুলোর নিয়মিত আগমন বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প কার্যক্রম এবং দৈনন্দিন জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন জাহাজগুলো বন্দরে পৌঁছালে দেশের জ্বালানি খাতে বিদ্যমান চাপ অনেকটাই কমে আসবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরো স্থিতিশীল হবে।