স্ত্রী কবিতা আক্তার, ১৬ মাস বয়সী মেয়ে নওশীন নাঈম নুসাইবা এবং মা ফাতেমা বেগমকে নিয়ে নাঈমের সুখের সংসার ছিল। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর বাড়িতে ঠাঁই না হওয়ায় বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার কুমারখালী গ্রামের শিকারি মোড় এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন তিনি। গত ১১ মার্চ বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় স্ত্রী ও মেয়েকে বলেছিলেন, বাড়ি ফিরে সবার জন্য ঈদের কেনাকাটা করবেন। সেই কেনাকাটা করা আর হয়নি।
গত ১২ মার্চ বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নববধু, বর ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে মারা যায় মাইক্রোবাস চালক নাঈম শেখ। কর্তা ব্যক্তিকে হারিয়ে চোখে অন্ধকার দেখেছে পরিবারটি।
মাইক্রোবাস চালক নাঈম রামপাল উপজেলার জিগিরমোল্লা গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে। ২০১৯ সালে মোরেলগঞ্জ উপজেলার শনির জোর গ্রামের কবির হোসেনের মেয়ে কবিতা আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরে কবিতাকে পড়াশুনা করিয়েছেন নাঈম। সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক (সম্মান) পাস করা কবিতা স্বামীকে সহযোগিতা করার জন্য মোংলা ইপিজেডে একটি কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ করেন। তিনি যা আয় করেন, তা দিয়ে সংসার চলার নয়।
সরেজমিন দেখা যায়, ভাড়া বাড়ির উঠোনে বালু নিয়ে খেলছে নাঈমের মেয়ে নুসাইবা। মাঝে-মধ্যে মায়ের কোলে উঠে বাবার কথা জানতে চাচ্ছে৷ সে এখনো বোঝে না, তার বাবা আর ফিরে আসবে না।
নাঈমের স্ত্রী কবিতা, মা এবং নাঈমের শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন বাড়িতে অবস্থান করছেন। কবিতার চোখে এখন আর অশ্রু নেই। স্বামীকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন তিনি।
কবিতা বলেন, ‘‘আমার শ্বশুর দ্বিতীয় বিয়ে করার পর শাশুড়িকে দেখভাল করেন না। শাশুড়ি আমাদের সঙ্গে থাকেন।’’ তার স্বামী তাকে অর্নাস পাস করিয়েছেন। এখন তিনি একটি চাকরি চান, যাতে সন্তান-শাশুড়িকে নিয়ে চলতে পারেন।
খুলনা–মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হয়। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।