আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান, এমনকি অস্থায়ীভাবে দেওয়া মেহেদির দোকানগুলো এখন জমজমাট। কিশোরী-তরুণীরা ভিড় জমাচ্ছেন এসব দোকানে।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী, খিলগাঁও, বাসাবো, মালিবাগ, মৌচাক ও মগবাজার এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর আড়ং আউটলেটার সামনে সড়কের পাশে এবং মৌচাকে ফরচুন শপিংমলসহ অন্যান্য শপিংমলের সামনে অস্থায়ী মেহেদির দোকান বসেছে। এছাড়া ফুটপাতেও অনেক অস্থায়ী মেহেদির দোকান বসেছে। এসব দোকানে ৫০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন ডিজাইনের নকশা পাওয়া যাচ্ছে।
দক্ষিণ বনশ্রীর আড়ংয়ের সামনে হাতে মেহেদির নকশার আকাঁর দোকান দিয়েছেন দুই বোন। মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাজী তাসরিন আমেনা তুয়া বলেন, “এ কাজটা শখের বসেই করা। গত দুই দিনে আমাদের ৫ হাজার টাকার কাজ করেছি। ভালো সেল হয়েছে। এটা দেখে ভালো লাগছে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লথিং অ্যান্ড টেক্সটাইল চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রামিসা রহমান বলেন, “হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে ঈদের সময় মেহেদী পরাব। যতটা আশা করেছিলাম তার থেকেও বেশি সাড়া পেয়েছি।”
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা সুরুচি রহমান বলেন, “প্রতি ঈদে আমি আমি দুই হাত ধরে মেহেদি দিই পরি। সকালে শপিংয়ে এসে দেখলাম সুন্দর করে মেহেদি দেওয়া হচ্ছে এবং দামও কম। সেজন্য এখানে থেকে মেহেদী পড়ছি।”
বাসাবো এলাকার একটি কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের শিক্ষিকা বীনা খান বলেন, “মেয়ে মেহেদি পরার জন্য এসেছিল। মেয়ের মেহেদি পরাটা দেখে ভালো লেগেছে। তাই আমিও হাতে মেহেদি লাগিয়েছি।”
মেহেদি শিল্পীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শুধু বাংলাদেশেই নয়, উপমহাদেশে ঈদে হাত মেহেদির রঙে রাঙানোর প্রচলন রয়েছে। আধুনিক ডিজাইন ও আরবি নকশার মেহেদির চাহিদা বেশি থাকায় শিল্পীরা নতুন নতুন ডিজাইন তৈরি করছেন। ঈদের সময় তাদের আয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সাধারণ দিনে যেখানে ৫ থেকে ১০ জন ক্রেতা পাওয়া যায়, ঈদের সময় সেখানে শতাধিক ক্রেতার হাত তাদের রাঙানোর সুযোগ হয়।